সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) থেকে মোঃ রাকিবুর রহমান রকিব : ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার সমর্থকদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে আশুগঞ্জ উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
হামলায় আতাউর রহমান ও রাসেল বিপ্লব নামে দুজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। পরে তারা প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। আতাউর রহমান আশুগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক এবং রাসেল বিপ্লব সাবেক জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন।
স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আশুগঞ্জ উপজেলার খোলাপাড়া গ্রামের আবদুল কাদির শাহ পাঠাগারের উদ্যোগে আগামী শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে রুমিন ফারহানাকে প্রধান অতিথি এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
অনুষ্ঠান সফল করতে সার্বিক সহযোগিতা ও মিলনায়তন বরাদ্দের জন্য গত সোমবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেন পাঠাগারের সভাপতি আতাউর রহমান।
বুধবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ওই অনুষ্ঠানের বিষয়ে খোঁজ নিতে আতাউর রহমান ও রাসেল বিপ্লব উপজেলা পরিষদে যান। ইউএনওর সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে তারা তাঁর কক্ষে উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান সিরাজ, সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান ও সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল হোসেনকে দেখতে পান। এ কারণে তারা কক্ষে প্রবেশ না করে নিচে নেমে উপজেলা পরিষদের বিপরীত পাশে দাঁড়িয়ে নিজেদের মধ্যে কথা বলছিলেন।
এ সময় তাদের ওপর হামলা হয় বলে অভিযোগ করেন রাসেল বিপ্লব। তাঁর দাবি, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে কয়েকজন তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। পরে উপজেলা পরিষদে থাকা গ্রাম পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই পক্ষকে সরিয়ে দেন।
রাসেল বিপ্লব বলেন, “আমরা সেখানে দাঁড়িয়ে নিজেদের মধ্যে কথা বলছিলাম। এ সময় বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান লোকজন নিয়ে আমাদের ওপর হামলা করেন।” তিনি আরও দাবি করেন, রুমিন ফারহানা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই তাঁর সমর্থকদের সঙ্গে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরোধ চলে আসছে।
তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান। তিনি বলেন, “মাদকের বিষয় নিয়ে আমাদের লোকজনের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কি হয়েছে। পরে আমি তাদের সেখান থেকে ফিরিয়ে দিয়েছি।”
এ বিষয়ে আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম শফিকুল আলম চৌধুরী বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উল্লেখ্য, রুমিন ফারহানা ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের বর্তমান স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য।
