স্টাফ রিপোর্টার : প্রিয় সন্তানকে বিদায় জানাতে বিমানবন্দরে এসেছিলেন মোছাঃ সাজু বেগম (৪৫)। প্রবাসী ছেলেকে বিদায় জানানোর সেই মুহূর্তটি হয়তো তাঁর কাছে ছিল আবেগ আর ভালোবাসায় ভরা। কিন্তু হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মাটিতে পড়ে যাওয়ায় মুহূর্তেই বদলে যায় পরিস্থিতি। ব্যস্ত বিমানবন্দর প্রাঙ্গণে অসুস্থ অবস্থায় পড়ে থাকা নারীটির জন্য তখন প্রয়োজন ছিল দ্রুত সহায়তার। ঠিক সেই সময় মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দেন দায়িত্ব পালনরত অঙ্গীভূত আনসার সদস্যরা।
মঙ্গলবার দুপুর আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ০৫ নম্বর হেভী লাগেজ গেট এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। সেখানে দায়িত্ব পালনকালে আন্তঃড্রাইভওয়ে এলাকার ইনচার্জ পিসি মোঃ দুলন মিয়া ও আনসার সদস্য মোছাঃ তাছলিমা আক্তারের নজরে আসে অসুস্থ হয়ে মাটিতে পড়ে থাকা সাজু বেগমকে।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে পেরে তাঁরা কোনো ধরনের বিলম্ব না করে দ্রুত তাঁর কাছে এগিয়ে যান। অসুস্থ নারীকে নিরাপদে উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার মাধ্যমে বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। বিমানবন্দরের মেডিকেল সেন্টারে পৌঁছানোর পর চিকিৎসক তাঁর শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। তাঁকে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হয়।
একজন অসুস্থ মানুষকে নিরাপদে চিকিৎসাকেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়ার পরও দায়িত্ব শেষ করেননি আনসার সদস্যরা। সাজু বেগমের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। স্বজনদের জানানো হয় তাঁর অসুস্থ হয়ে পড়ার বিষয়টি এবং চিকিৎসার পর তাঁর অবস্থার কথাও অবহিত করা হয়।
পরে পরিবারের সদস্যরা বিমানবন্দরে উপস্থিত হলে সাজু বেগমকে নিরাপদে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। প্রিয়জনকে বিদায় জানাতে এসে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়া একজন নারী শেষ পর্যন্ত স্বজনদের নিরাপদ সান্নিধ্যে ফিরে যেতে সক্ষম হন।
ঘটনাটি হয়তো খুব ছোট। কিন্তু বিপদের মুহূর্তে একজন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মূল্য অনেক বড়। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আনসার সদস্যদের তাৎক্ষণিক সাড়া, মানবিক সহযোগিতা এবং দ্রুত পদক্ষেপ একজন অসুস্থ নারীকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা পাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মানুষের বিপদের সময় পাশে দাঁড়ানোও দায়িত্বেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এই ঘটনায় আনসার সদস্যরা সেই দায়িত্বশীলতা ও মানবিকতারই পরিচয় দিয়েছেন।
একজন মা অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন, দায়িত্বের জায়গা থেকে আনসার সদস্যরা হয়ে উঠেছিলেন তাঁর তাৎক্ষণিক সহায়। আর শেষ পর্যন্ত তিনি ফিরে গেছেন আপনজনদের কাছে।
মানুষের বিপদে পাশে থাকা, প্রয়োজনের মুহূর্তে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া এবং দায়িত্বের সঙ্গে মানবিকতাকে ধারণ করা, এই মূল্যবোধকে সামনে রেখে জননিরাপত্তা ও জনসেবায় কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী।
