বুধবার | অক্টোবর ৭, ২০২৬
প্রচ্ছদ সারাদেশ ‎কমলনগরে অভিনব প্রতারণায় লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন ভুয়া কবিরাজ

‎জ্বিন দিয়ে করেন জটিল ও কঠিন রোগের চিকিৎসা

‎কমলনগরে অভিনব প্রতারণায় লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন ভুয়া কবিরাজ

‎কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি : ‎লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে জ্বিনের মাধ্যম বিভিন্ন জটিল ও কঠিন রোগের চিকিৎসা দেওয়ার নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে মো. হারুন মোল্লা নামে এক ভুয়া কবিরাজের বিরুদ্ধে। তার অভিনব প্রতারণায় প্রতিদিন বিভিন্ন দূর-দূরান্তে আসা রোগীরা নি:স্ব হয়ে বাড়ি ফিরছেন। স্বামী-স্ত্রীর অমিল, জীনের আসর, নিঃসন্তান নারীদের সন্তান হওয়াসহ জটিল ও কঠিন রোগের চিকিৎসা করে আসছেন এই কবিরাজ। এলাকার কিছু রাজনৈতিক প্রভাশালীদের ছত্র ছায়ায় উপজেলার চরলরেন্স ইউনিয়নের ভক্তপাড়া এলাকায় দীর্ঘদিন থেকে এ অপচিকিৎসা করে আসছেন তিনি।

‎স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সাহেবেরহাট ইউনিয়নে মেঘনায় তার বাড়ি-ঘর বিলীন হওয়ার পর ১০-১২ বছর আগে হারুন মোল্লা চরলরেন্স ভক্তপাড়া এসে বসতি স্থাপন করেন। সেই থেকেই শুরু হয় তার অভিনব প্রতারণা কৌশল। রাতারাতি কবিরাজ বনে গিয়ে নিজ বাড়িতেই শুরু করেন অপচিকিৎসা। জ্বিনের মাধ্যমে বিভিন্ন জাদু টোনা, স্বামী-স্ত্রীর অমিল, তাবিজ উঠানোসহ বিভিন্ন জটিল ও কঠিন রোগের চিকিৎসা করেছেন তিনি। জানা যায়, তাবিজ উঠানো থেকে শুরু করে বিভিন্ন চিকিৎসায় তিনি এক হাজার থেকে দুই হাজার টাকা নেন। আবার কিছু কিছু চিকিৎসা তিনি মোটা অঙ্কের টাকায় কন্টাক্টে করে থাকেন। এ ভাবে প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি দুর-দুরান্ত থেকে আসা প্রায় শতাধিক রোগীর সাথে চিকিৎসার নামে প্রতারণা করে আসছেন।

‎সরজমিন গিয়ে দেখা যায়, তার ঘরে পুরুষ মহিলা মিলে১০-১৫জন রোগী বসে আছেন। তার মধ্যে নোয়াখালীর আন্ডারচরের এক মহিলা আসছেন জামাই মেয়ের খোঁজ খবর নেয়না। পরে হারুন মোল্লা জ্বিন হাজির করে সমস্যা পেয়েছেন মেয়ের জামাইকে কারা যেন তাবিজ করেছে। পরে এক হাজার টাকার বিনিময়ে ৫টি তাবিজ উঠানো হয়। ওই তাবিজ কবিরাজ তাদের দেখিয়েছেন কিন্তু হাতে দেননি। এটাও বলছে এ তাবিজ আপনাদের হাতে দেওয়া যাবে না এতে মেয়ের বড় ধরনের ক্ষতি হবে। যার ভয়ে তার ওই তাবিজ ধরতে রাজি হননি।

‎এ বিষয়ে জানতে চাইলে মো. হারুন মোল্লা বলেন, আমিতো মানুষের সেবা করি। আর আমার ব্যবসা বৈধ না অবৈধ আল্লাহই ভালো জানেন।
‎
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, এ ধরনের চিকিৎসা দেওয়ার কোন আইনগত ভিত্তি নেই। এটা টোটালি প্রতারণা। আমরা ঘটনার সত্যতা পেলে উপজেলা প্রশাসনকে সাথে নিয়ে আইনগত পদক্ষেপ নিব।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা