এম. শহীদুল ইসলাম (কুতুবদিয়া- কক্সবাজার) : কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ায় জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট ঐতিহাসিক ক্ষয়ক্ষতির ন্যায্য ক্ষতিপূরণের দাবিতে সর্বস্তরের লোকজনের স্বতস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মধ্যে দিয়ে মানববন্ধন পালন করা হয়েছে।
শুক্রবার ১৬ (অক্টোবর) সকাল ১০ টার দিকে কুতুবদিয়া উপজেলা গেইটের সামনে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক নাগরিক সংগঠন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ ও স্থানীয় তরুনদের পরিবেশবাদী সংগঠন কুতুবদিয়া দ্বীপ সুরক্ষা আন্দোলন (কেডিএসএ)‘র যৌথ উদ্যোগে এ মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সম্প্রতি ১২—১৮ অক্টোবর ২০২৬ থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত আইএমএফ—বিশ্বব্যাংক‘র বার্ষিক সাধারণ সভাকে ঘিরে ‘বিশ্ব অর্থনীতি কার স্বার্থে পরিচালিত হবে?” এই প্রশ্নকে সামনে রেখে ওই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধন কর্মসূচির সভাপতিত্ব করেন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা ধরা কুতুবদিয়ার আহবায়ক এম. শহীদুল ইসলাম। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কুতুবদিয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিক হাসান কুতুবী, পরিবেশকর্মী নুরুল কাদের, মৎস্যজীবি প্রতিনিধি আবদু শুক্কুর, প্রান্তিক চাষি প্রতিনিধি শফিউল আলম, কৃষক নজরুল ইসলাম, মো. আমিন ও মো. তারেক প্রমূখ।
এসময় বক্তারা বলেন, আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও নীতিনির্ধারকেরা ঋণ, বিনিয়োগ, প্রবৃদ্ধি ও আর্থিক স্থিতিশীলতা নিয়ে ব্যস্ত। অথচ প্রান্তিক চাষি, শ্রমিক, নারী, পরিবেশবাদী, আদিবাসী জনগোষ্ঠী ও নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলো ঋণবিচার, করবিচার, জলবায়ু ন্যায়বিচার এবং অর্থনীতির ওপর জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবি প্রতিনিয়ত করে আসছে। তারপরেও ঋণের বোঝা জনগণের ঘাড়ে। উন্নয়নশীল দেশগুলোকে একদিকে বৈদেশিক ঋণের কিস্তি ও সুদ পরিশোধ করতে হচ্ছে। অন্যদিকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও সামাজিক সুরক্ষার প্রয়োজনীয় ব্যয় বজায় রাখতে হিমশিম খেতে হচ্ছে প্রান্তিক জনগোষ্ঠির। উচ্চ সুদ, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও জলবায়ু বিপর্যয়ের ঝুঁকি এই সংকট আরও গভীর করছে। ঋণ পরিশোধের স্বার্থে যদি মানুষের মৌলিক অধিকার সংকুচিত হয়, তবে সেই উন্নয়ন কারও প্রযোজ্য নয় বলে জানান।
বক্তারা আরও বলেন, জলবায়ু অভিযোজনের নামে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে নতুন ঋণের ফাঁদে ফেলা চলবেনা। জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভর অর্থনীতি থেকে মুনাফা অর্জন করছে তথাকথিত উন্নত দেশ ও কর্পোরেশনগুলো। অথচ ঘূর্ণিঝড়, খরা, নদীভাঙন ও ফসলহানির বোঝা বহন করছে কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ এবং জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো। বক্তারা সবুজ ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তর, পরিবেশ সুরক্ষা, জলবায়ু ন্যায্যতা এবং জনগনের মালিকানা নিশ্চিত করার দাবি তোলেন মানববন্ধন কর্মসূচিতে।
মানববন্ধনে সর্বস্তরের লোকজন, প্রান্তিক চাষি ও পরিবেশকর্মীরা বিভিন্ন দাবির স্বপক্ষে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করে সুশৃংখলভাবে ওই বৈশ্বিক কর্মসূচিটি সফল করে তোলেন।
