রবিবার | অক্টোবর ১৮, ২০২৬
প্রচ্ছদ বাণিজ্য ব্যাংককে পর্দা নামল, ২০২৯ সালে আবুধাবিতে বিশ্ব অর্থনীতির মহামিলন

আইএমএফ–বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভার শেষ দিনে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর :

ব্যাংককে পর্দা নামল, ২০২৯ সালে আবুধাবিতে বিশ্ব অর্থনীতির মহামিলন

ব্যাংকক থেকে জাহাঙ্গীর খান বাবু : বিশ্ব অর্থনীতির নীতিনির্ধারক, অর্থমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর, উন্নয়ন সহযোগী ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের ২০২৬ সালের বার্ষিক সভার পর্দা নামল। শেষ দিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন ছিল ২০২৯ সালের বার্ষিক সভা সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে আয়োজনের লক্ষ্যে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর। গতকাল রবিবার ( ১৮ অক্টোবর) ব্যাংককের কুইন সিরিকিত ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে (QSNCC) এ চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে পরবর্তী সম্মেলন আয়োজনের প্রস্তুতি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো।

১২ অক্টোবর শুরু হওয়া এ সম্মেলনের গতকাল রবিবার সমাপনী দিনে স্বাক্ষরিত চুক্তিতে অংশ নেয় সংযুক্ত আরব আমিরাত, বিশ্বব্যাংক গ্রুপ ও আইএমএফ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা, আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আর্থিকবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন হাদি আল হুসাইনি এবং দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর খালেদ মোহাম্মদ বালামা। চুক্তির মাধ্যমে ২০২৯ সালের বার্ষিক সভা আয়োজনের প্রস্তুতিতে তিন পক্ষের আনুষ্ঠানিক সহযোগিতার কাঠামো প্রতিষ্ঠিত হলো।

২০২৯ সালের অক্টোবরে আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত হবে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভা। এর মধ্য দিয়ে ২৬ বছর পর সংযুক্ত আরব আমিরাতে ফিরছে এ আন্তর্জাতিক আয়োজন। এর আগে ২০০৩ সালে দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছিল আইএমএফ–বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভা। বিশ্ব অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী আলোচনার জন্য আবুধাবির এ আয়োজন আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে মনোযোগ তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বার্ষিক সভা কেবল আনুষ্ঠানিক বৈঠকের আয়োজন নয়। বিশ্ব অর্থনীতির গতিপ্রকৃতি, আর্থিক স্থিতিশীলতা, উন্নয়ন অর্থায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য হ্রাসের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নীতিনির্ধারক ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি করে এ সম্মেলন। অর্থমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর, উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি, বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তা, গবেষক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থায়নের প্রয়োজন নিয়ে আলোচনাও এ আয়োজনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা আবুধাবিতে সভা আয়োজনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আতিথেয়তা, পুঁজি প্রবাহের পরিবেশ এবং গত কয়েক দশকে দেশটির রূপান্তরের প্রশংসা করেন। উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক রূপান্তরে সরকারি অর্থায়নের পাশাপাশি বেসরকারি পুঁজি আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর প্রয়োজনীয়তার সঙ্গেও তিনি বিষয়টির সম্পর্ক তুলে ধরেন।

আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা বলেন, ওয়াশিংটনের বাইরে অনুষ্ঠিত সভাগুলো অংশগ্রহণকারীদের জন্য বিশেষ স্মরণীয় হয়ে থাকে। আবুধাবিকে দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বের চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনার উপযুক্ত স্থান হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে ব্যাংককে সম্মেলন আয়োজনের প্রস্তুতি, সাংগঠনিক দক্ষতা, সাংস্কৃতিক আয়োজন ও আতিথেয়তার প্রশংসা করেন। ব্যাংককের আয়োজনের পর আবুধাদির সামনে থাকবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের এ বৃহৎ সম্মেলন সফলভাবে আয়োজনের প্রত্যাশা পূরণের দায়িত্ব।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের পক্ষ থেকে আর্থিকবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন হাদি আল হুসাইনি আয়োজক হওয়ার দায়িত্ব পাওয়ায় সন্তোষ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর খালেদ মোহাম্মদ বালামা বলেন, এ সিদ্ধান্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের অর্থনৈতিক কাঠামো এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক নেতাদের একত্র করার সক্ষমতার প্রতি আস্থার প্রতিফলন।

১২ থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত ব্যাংককে অনুষ্ঠিত বার্ষিক সভায় বৈশ্বিক অর্থনীতির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, আর্থিক স্থিতিশীলতা, উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থায়ন, সরকারি ঋণ, কর্মসংস্থান এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অর্থনৈতিক প্রভাব ছিল আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক আলোচনার উল্লেখযোগ্য ক্ষেত্র। বৈশ্বিক অর্থনীতির অনিশ্চয়তার মধ্যে দেশগুলোর নীতিগত সমন্বয়, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং উন্নয়নের অর্থায়ন নিশ্চিত করার বিষয়গুলোও এ ধরনের সম্মেলনের গুরুত্ব বাড়িয়েছে।

আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভা সদস্য দেশগুলোর নীতিনির্ধারকদের জন্য এমন একটি আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম, যেখানে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মূল্যায়নের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ নীতি ও উন্নয়ন সহযোগিতার দিকনির্দেশনা নিয়ে আলোচনা হয়। উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য অর্থায়নের সুযোগ, বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং অর্থনৈতিক ধাক্কা মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়গুলোও এ আলোচনার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত।

বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বার্ষিক সভার ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের ব্যাংকক আয়োজনের পর ২০২৯ সালে আবুধাবিতে আবারও একত্র হবেন বিশ্বের অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারকরা। সেখানে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি, আর্থিক স্থিতিশীলতা, উন্নয়ন অর্থায়ন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।

ব্যাংককের সমাপনী দিনে চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে তাই শেষ হলো একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন, একই সঙ্গে শুরু হলো পরবর্তী আয়োজনের প্রস্তুতি। থাইল্যান্ডের রাজধানী থেকে বিশ্ব অর্থনীতির আলোচনার মঞ্চ এবার এগিয়ে যাচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবির দিকে। ২০২৯ সালের বার্ষিক সভায় বিশ্বের অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারকদের নতুন করে একত্র করার আনুষ্ঠানিক ভিত্তি তৈরি হলো ব্যাংককের এই চুক্তির মধ্য দিয়ে।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা