বুধবার | অক্টোবর ২৮, ২০২৬
প্রচ্ছদ সারাদেশ শাস্তির বদলে ইয়াবা আত্মসাতের অভিযোগে অভিযুক্ত এসআইকে পুরস্কার!

এক লাখ পিস ইয়াবা গায়েবের অভিযোগ, তদন্তের দাবি :

শাস্তির বদলে ইয়াবা আত্মসাতের অভিযোগে অভিযুক্ত এসআইকে পুরস্কার!

এইচ এন আলম, কক্সবাজার : এক লাখ পিস ইয়াবা আত্মসাতের অভিযোগে যখন কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার বালুখালী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই গোলাম কিবরিয়াকে নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে, তখনই তাকে নগদ অর্থ পুরস্কার দিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) এএনএম সাজেদুর রহমান।

গত রোববার (২৫ অক্টোবর) উখিয়া থানায় গিয়ে তিনি ওই এসআইয়ের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। একই ঘটনায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকেও (ওসি) পুরস্কৃত করা হয়। এ নিয়ে পুলিশের ভূমিকা ও পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২২ অক্টোবর সকাল ১১টার দিকে উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের থাইংখালী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছৈয়দুল বশর ওরফে সিসি বশরকে আটক করে পুলিশ।

অভিযানে দেড় লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হলেও মামলার এজাহারে ৫০ হাজার পিসের কথা উল্লেখ করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারী ও প্রত্যক্ষদর্শী সরওয়ার সিকদার। বাকি এক লাখ পিস ইয়াবা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে এসআই গোলাম কিবরিয়ার বিরুদ্ধে।

সরওয়ার সিকদারের অভিযোগ, আত্মসাৎ করা ইয়াবা পরে এক কোটি ১০ লাখ টাকায় মাদক কারবারিদের কাছে বিক্রি করা হয়। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

মামলার এজাহারে সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা দেলোয়ার ও সাদ্দাম দাবি করেছেন, পুলিশের অভিযান ও ইয়াবা উদ্ধারের বিষয়ে তারা তেমন কিছু জানেন না। এমনকি মামলায় সাক্ষী হিসেবে তাদের নাম থাকার বিষয়েও অবগত নন বলে জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ, জব্দতালিকা ও মামলার নথি যাচাই করলে ইয়াবা উদ্ধারের প্রকৃত পরিমাণ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

পুলিশ সূত্রের দাবি, ৫০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার ও একজনকে গ্রেপ্তারের স্বীকৃতি হিসেবেই এসআই কিবরিয়া ও ওসিকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। তবে ইয়াবা আত্মসাতের অভিযোগ প্রকাশের দিনই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে পুরস্কৃত করায় সমালোচনা তৈরি হয়েছে।

এদিকে পুলিশ সুপার সাজেদুর রহমানের বিরুদ্ধে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং বিতর্কিত কর্মকর্তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। সাম্প্রতিক সময়ে ঈদগাঁও-ঈদগড় সড়কে গণডাকাতি, পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় মাদক গায়েবের অভিযোগ এবং আদালত প্রাঙ্গণে গোলাগুলির মতো ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিভিন্ন মহলের ব্যক্তিরা।

জেলা পুলিশের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত কক্সবাজারে ৯৫টি খুন, ১২৭টি ধর্ষণ ও ২৯৭টি অপমৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে দেড় শতাধিক মামলা হয়েছে। এসব পরিসংখ্যানের প্রেক্ষাপটে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

কক্সবাজার নাগরিক আন্দোলনের সদস্যসচিব এইচ এম নজরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, পুলিশ হেফাজত থেকে ইয়াবা গায়েবের ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা দেখা যাচ্ছে না। তিনি এসব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন।

ইয়াবা আত্মসাতের অভিযোগ ও পুরস্কার দেওয়ার বিষয়ে বক্তব্য জানতে পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

অন্যদিকে পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আবদুল কুদ্দুস গণমাধ্যমকে বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত নন। তবে অভিযোগটি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন।

অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, উদ্ধার করা ইয়াবার প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা