শুক্রবার | সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
প্রচ্ছদ জাতীয় নকশা লঙ্ঘন, অতিরিক্ত তলা ও ইউনিট বৃদ্ধির অভিযোগে উদ্বেগ; তদন্তের দাবি স্থানীয়দের

অভিযোগের পরও ‘রোজ ভ্যালি’ বহাল, রাজউকের পদক্ষেপে ধীরগতি

নকশা লঙ্ঘন, অতিরিক্ত তলা ও ইউনিট বৃদ্ধির অভিযোগে উদ্বেগ; তদন্তের দাবি স্থানীয়দের

রানা মিয়া, ঢাকা (উত্তরা): রাজধানীর খিলখেত উত্তরপাড়ায় অবস্থিত ‘রোজ ভ্যালি’ নামের বহুতল ভবনটি নিয়ে একাধিক গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠলেও এখন পর্যন্ত রাজউকের দৃশ্যমান কোনো প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেই বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এতে ভবনটির অনুমোদন ও কাঠামোগত নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভবনটি নির্মাণে রাজউকের অনুমোদিত নকশা লঙ্ঘন করা হয়েছে। অনুমোদনে ১০ তলা ভবনের অনুমতি থাকলেও বাস্তবে ১১ তলা পর্যন্ত নির্মাণ করা হয়েছে বলে দাবি তাদের। পাশাপাশি ফ্লোর প্ল্যান পরিবর্তন করে অতিরিক্ত ইউনিট তৈরি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতি তলায় অনুমোদিত চারটি ইউনিটের পরিবর্তে ছয় থেকে সাতটি ইউনিট নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া ভবন নির্মাণে নির্ধারিত সেটব্যাক বা খোলা জায়গার শর্তও যথাযথভাবে মানা হয়নি বলে দাবি স্থানীয়দের।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, রাজউকের অনুমোদিত নকশায় ভবনটির জন্য ৩৬টি বিদ্যুৎ মিটারের অনুমোদন থাকলেও ডেসকোর একটি নথিতে ৫৬টি মিটারের তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের দাবি, অনুমোদনের বাইরে অতিরিক্ত ইউনিট নির্মাণের কারণেই অতিরিক্ত মিটার সংযোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে রাজউক ও বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থার যৌথ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয়দের ভাষ্য, অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পরও এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো তদন্ত বা প্রশাসনিক উদ্যোগ দেখা যায়নি। এতে ভবনটির কাঠামোগত নিরাপত্তা ও অনুমোদন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হচ্ছে।

অভিযোগে ভবনটির মালিক হিসেবে আব্দুর রশিদ গং, ইমদাদ, আব্দুল মালেক ও শাহ আলমের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তাদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা বলেন, “এত গুরুতর অভিযোগের পরও কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেওয়া হতাশাজনক। আমরা আশা করেছিলাম দ্রুত তদন্ত হবে।”

নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, অনুমোদিত নকশা লঙ্ঘন, অতিরিক্ত তলা নির্মাণ, ইউনিট সংখ্যা বৃদ্ধি এবং সেটব্যাক অমান্য করা প্রমাণিত হলে তা নির্মাণবিধির গুরুতর ব্যত্যয় হিসেবে গণ্য হবে। এতে ভবনটির কাঠামোগত ঝুঁকি বাড়তে পারে বলেও তারা সতর্ক করেছেন।

এ বিষয়ে রাজউকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা