নিজস্ব প্রতিবেদক: আজ ২৫ জুন ২০২৬, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা, সাবেক সফল মন্ত্রী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল (অব:) আকবর হোসেন বীরপ্রতীক এঁর ২০তম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০০৬ সালের এই দিনে নৌপরিবহন মন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি আকস্মিক মৃত্যুবরণ করেন।
মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে কুমিল্লা জেলা বিএনপি ও তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে দিনব্যাপী বিভিন্ন দোয়া মাহফিল ও স্মরণসভার কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি
আজ বিকাল সাড়ে ৫টায় কুমিল্লা জেলা বিএনপি কার্যালয়ে মরহুমের স্মরণে এক আলোচনা ও স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া বাদ মাগরিব কুমিল্লার ঐতিহাসিক কান্দিরপাড় জামে মসজিদে বিশেষ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।
মনোহরগঞ্জ উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের পক্ষ থেকে সকালে চিতষী শরিফপুর গ্রামে মরহুমের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও সংলগ্ন মসজিদে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি, পরিবারের পক্ষ থেকে কুমিল্লা সংরাইশ সালেহা উচ্চ বিদ্যালয়ে কোরআনখানি, দোয়া মাহফিল ও প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়েছে।
এক বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ও বীরত্বগাথা জীবন
কর্নেল আকবর হোসেন ১৯৪১ সালের ১৮ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য তিনি ‘বীরপ্রতীক’ খেতাব লাভ করেন। সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণের পর তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ১৯৭৪ সালে ‘ইউনাইটেড পিপলস পার্টি’ (ইউপিপি) গঠনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং দলটির সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ১৯৭৭ সালে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠায় অন্যতম অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
তিনি দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মোট ৫ বার বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হন। বিভিন্ন মেয়াদে তিনি অত্যন্ত সুনামের সাথে পেট্রোলিয়াম ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী, পরিবেশ ও বন মন্ত্রী এবং সর্বশেষ নৌপরিবহন মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আমৃত্যু তিনি বিএনপির সহ-সভাপতি এবং কুমিল্লা জেলা বিএনপির আহবায়কের দায়িত্বে ছিলেন। জাতীয় সংসদে দেশ ও জাতির স্বার্থে তাঁর বলিষ্ঠ ও বাগ্মীতাূর্ণ বক্তব্য আজও স্মরণীয়।
কূটনীতি ও সংস্কৃতিতে অনন্য অবদান
রাজনীতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক কূটনীতি এবং দেশের সংস্কৃতি অঙ্গনেও কর্নেল আকবর হোসেনের অবদান ছিল অনস্বীকার্য। ১৯৭৮ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন, যার ফলশ্রুতিতে জাপানকে পরাজিত করে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়। এছাড়া তিন বিঘা করিডোর, ফারাক্কা ও চাকমা সমস্যা সমাধানের নিমিত্তে গঠিত কমিটির সদস্য ছিলেন তিনি।
সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে তিনি জহির রায়হানকে নিয়ে ‘অবুঝ মন’ ও ‘সোনার কাজল’ চলচ্চিত্র দুটি নির্মাণ করেন। তিনি একজন নৃত্যশিল্পী ছিলেন এবং ঐতিহ্যবাহী ‘বুলবুল ললিতকলা একাডেমি’ (বাফা) প্রতিষ্ঠায় সম্পৃক্ত ছিলেন। লেখক হিসেবেও তাঁর দারুণ খ্যাতি ছিল; তাঁর রচিত বইগুলোর মধ্যে ‘ভিক্ষুক কোনদিন বড়লোক হয়না গরিব বড়লোক হয়’ এবং ‘শহীদ জিয়া ও আমি’ অন্যতম।
আজ এই মহান নেতার ২০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে কুমিল্লা জেলা বিএনপি, অঙ্গ সংগঠন এবং তাঁর পরিবার সকল স্তরের নেতাকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের দোয়া মাহফিলে শরিক হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে।
৩৫
