স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর তুরাগে উত্তরা অফিসার্স ক্লাবকে কেন্দ্র করে জমি নিয়ে বিরোধ নতুন মাত্রা পেয়েছে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন ব্যবসায়ী বরকত জোমাদ্দার। তার অভিযোগ, বৈধভাবে ক্রয় করা নিজের মালিকানাধীন জমির একটি অংশ ছেড়ে দিতে অস্বীকৃতি জানানোর জেরে পরিকল্পিতভাবে তাকে একের পর এক মামলায় জড়িয়ে আইনি হয়রানির শিকার করা হচ্ছে।
বরকত জোমাদ্দার জানান, আইনানুগ প্রক্রিয়ায় তিনি জমিটি ক্রয় করে দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখলে রয়েছেন। তবে পরবর্তীতে উত্তরা অফিসার্স ক্লাবের পক্ষ থেকে তার মালিকানাধীন জমির একটি অংশ ছেড়ে দেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করা হয়। তিনি এতে রাজি না হওয়ায় তার চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে সেখানে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার পর থেকে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি পুলিশকে ব্যবহার করে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হয়রানি করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন। তার ভাষ্য, এসব কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্য তাকে মানসিকভাবে চাপে ফেলে জমি ছেড়ে দিতে বাধ্য করা।
বরকত জোমাদ্দারের দাবি, তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো সম্পূর্ণ সাজানো ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি বলেন, সীমানা প্রাচীর ভাঙচুর, হামলা, দোকান ভাঙচুর এবং জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগের সঙ্গে তিনি বা তার কোনো লোকজনের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
তিনি বলেন, “আমি একজন আইন মেনে চলা নাগরিক। আমার বৈধ সম্পত্তির অধিকার রক্ষার চেষ্টা করছি। অথচ আমাকে সামাজিক ও ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে। আমার একমাত্র দাবি, ঘটনাটির সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা হোক এবং আমি যেন ন্যায়বিচার পাই।”
প্রসঙ্গত, একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তরা অফিসার্স ক্লাবের পক্ষ থেকে বরকত জোমাদ্দারের বিরুদ্ধে দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম মামলাটি গত ২৬ জুন তুরাগ থানায় দায়ের করা হয়। ওই মামলায় ক্লাবের অ্যাকাউন্টস ম্যানেজার মো. মেরাজুল ইসলাম অভিযোগ করেন, বরকত জোমাদ্দারের নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জন ব্যক্তি ক্লাবের সীমানা প্রাচীর ভাঙচুর, ক্লাবের অধীনস্থ একটি দোকানে ক্ষয়ক্ষতি এবং জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা করেছেন। পরবর্তীতে একই ঘটনায় গত ৩ জুলাই তুরাগ থানায় আরও একটি মামলা দায়ের করা হয়, যার মামলা নম্বর-৩।
এ বিষয়ে মামলার বাদী মো. মেরাজুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগের বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি। বিষয়টি সম্পর্কে কোনো মন্তব্য না করেই তিনি ফোন কলটি কেটে দেন।
অন্যদিকে, বরকত জোমাদ্দার বলেন, তিনি আইন ও আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।
