এস.এম.নাহিদ: রেলওয়ের উচ্ছেদ অভিযানের ঘোষণাকে কেন্দ্র করে খিলক্ষেতে নতুন করে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও একাধিক সূত্রের দাবি, গত ১৭–১৮ জুলাই অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নামে মাইকিং করে ২০ জুলাইয়ের মধ্যে দোকানপাট সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও পরে সংশ্লিষ্ট রেলওয়ে দপ্তরে যোগাযোগ করলে তারা এমন কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযানের তথ্য জানাতে পারেনি। এ অবস্থায় রেলওয়ের এক মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা ও স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তির যোগসাজশে উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ রাখার নামে প্রায় দুই লাখ টাকার সমঝোতা এবং বাজারের দোকানপ্রতি চাঁদা আদায়ের অভিযোগ সামনে এসেছে।।
খিলক্ষেতের কাচা বাজার কয়েক লাখ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের প্রধান সরবরাহস্থল। অথচ জনস্বার্থের এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে কোনো টেকসই পরিকল্পনা না করে উচ্ছেদের আতঙ্ক সৃষ্টি এবং সেই আতঙ্ককে পুঁজি করে চাঁদাবাজির অভিযোগ জনমনে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে ফুটপাত দখল, অবৈধ দোকানপাট ও বিশৃঙ্খল বাজার ব্যবস্থাপনার কারণে পথচারীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে, যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারির অভাবকেই সামনে নিয়ে এসেছে।
খিলক্ষেতের এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নিচে অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণ নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিকল্পনার দুর্বলতা ও প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপে জনদুর্ভোগ আরও বেড়েছে। এখন প্রয়োজন রেলওয়ে, সিটি কর্পোরেশন ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগে স্বচ্ছ তদন্ত, চাঁদাবাজির অভিযোগে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে একটি স্থায়ী ও সুশৃঙ্খল বাজারব্যবস্থা গড়ে তোলা। অন্যথায় উচ্ছেদের নামে ভয় দেখিয়ে অবৈধ অর্থ আদায়ের সংস্কৃতি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে।
