শুক্রবার | সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
প্রচ্ছদ নীতিহীনতার বিস্তার সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য নীরব হুমকি…!

নীতিহীনতার বিস্তার সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য নীরব হুমকি…!

এস.এম.নাহিদ: সমাজে দায়িত্বশীল অবস্থানে থাকা কিছু মানুষের নীতি-নৈতিকতার অবক্ষয়, আত্মসম্মানবোধের সংকট ও ব্যক্তিস্বার্থের কাছে নত হওয়ার প্রবণতা দিন দিন দৃশ্যমান হচ্ছে। এর প্রভাব আর ব্যক্তিগত পরিসরে সীমাবদ্ধ নেই; তা ছড়িয়ে পড়ছে সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক জীবনে। ফলে নিয়ম মেনে চলা, শান্তিপ্রিয় মানুষই ক্রমে নানা চাপ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ছেন। যাঁদের কাছ থেকে ন্যায়, সংযম ও দায়িত্বশীলতার দৃষ্টান্ত প্রত্যাশিত, তাঁদের আচরণেই যদি তার বিপরীত চিত্র দেখা যায়, তাহলে সমাজের নৈতিক ভিত্তি দুর্বল হওয়া অবশ্যম্ভাবী।

সবচেয়ে ভয়াবহ হলো, অন্যায় যখন প্রতিরোধের বদলে প্রশ্রয় পায়, তখন সেটি ধীরে ধীরে স্বাভাবিকতায় পরিণত হয়। প্রভাব, তোষামোদ ও ব্যক্তিস্বার্থ যদি সততা ও যোগ্যতাকে পেছনে ঠেলে দেয়, তাহলে সৎ মানুষ নিরুৎসাহিত হন এবং সুবিধাবাদীরা উৎসাহিত হন। একপর্যায়ে আইন ও নীতির চেয়ে পরিচয় ও প্রভাবকে বড় করে দেখার সংস্কৃতি তৈরি হয়। এর মূল্য শুধু বর্তমান প্রজন্ম নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও দিতে হয়।

এই প্রবণতার বিস্তার রোধে প্রয়োজন কথার চেয়ে কার্যকর জবাবদিহি। দায়িত্বশীল অবস্থানে থাকা কেউ অনৈতিক আচরণ করলে তাঁর পরিচয়, প্রভাব বা সামাজিক অবস্থান যেন তাঁকে দায়মুক্তি না দেয়। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যক্তিনির্ভরতা থেকে বের করে নিয়ম ও নীতিনির্ভর করতে হবে। গণমাধ্যমকে তথ্যভিত্তিক প্রশ্ন তুলতে হবে, নাগরিক সমাজকে নৈতিক অবস্থান শক্ত করতে হবে এবং সাধারণ মানুষকেও অন্যায়কে স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নেওয়ার মানসিকতা পরিহার করতে হবে।

এটি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে আক্রমণের প্রশ্ন নয়-প্রশ্ন একটি সুস্থ সমাজের নৈতিক ভিত্তি রক্ষার। নীরবতা, আপস ও অন্ধ আনুগত্য অনৈতিকতার বিস্তারকে শুধু দীর্ঘায়িত করে। তাই এখন প্রয়োজন ব্যক্তির প্রতি নয়, নীতির প্রতি আনুগত্য- প্রভাবের প্রতি নয়, আইনের প্রতি শ্রদ্ধা,আর সুবিধার কাছে নয়- বিবেকের কাছে জবাবদিহি। সমাজে দায়িত্বশীলতার মানদণ্ড যত কঠোর হবে, নীতিহীনতার বিস্তার তত দ্রুত সংকুচিত হবে।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা