শুক্রবার | সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
প্রচ্ছদ সারাদেশ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ছদ্মবেশে সক্রিয় ডাকাত দলের ৭ সদস্য গ্রেফতার: রিভলভার-গুলি ও ডিবি-র‌্যাবের পোশাক উদ্ধার

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ছদ্মবেশে সক্রিয় ডাকাত দলের ৭ সদস্য গ্রেফতার: রিভলভার-গুলি ও ডিবি-র‌্যাবের পোশাক উদ্ধার

মোঃমনজুর মোল্লা , ঢাকা: আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভুয়া পরিচয় ও পোশাক ব্যবহার করে ডাকাতি চালিয়ে আসা সংঘবদ্ধ চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) লালবাগ বিভাগ।

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও সেনাবাহিনীর দুই চাকরিচ্যুত সদস্যও রয়েছেন।

গত ১৪ ও ১৫ আগস্ট ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, ১টি ম্যাগাজিন, ৬ রাউন্ড গুলি, ডাকাতি কাজে ব্যবহৃত প্রাইভেট কার, হ্যান্ডকাফ, ওয়াকিটকি, খেলনা পিস্তল এবং পুলিশ, ডিবি ও র‌্যাবের ভুয়া পোশাক ও ভেস্ট উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন: মোঃ তৈয়ব আলী সর্দার (৪৫), পাভেল সর্দার (৩৩) — চাকরিচ্যুত পেটি অফিসার, বাংলাদেশ নৌবাহিনী, সাইফুর রহমান (৪৫), রাব্বি আলম (২৪) — চাকরিচ্যুত সৈনিক, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, ইমরান হোসেন ভুঁইয়া (২৮), নুরুল ইসলাম (৩৩), মোঃ ইসমাইল (২৮), অভিযানের বিবরণ:

পুলিশ জানায়, গত ১৪ আগস্ট গভীর রাতে কামরাঙ্গীরচর থানাধীন বেড়িবাঁধ সংলগ্ন দূরানী ব্রিজের কাছে একদল ডাকাত সমবেত হওয়ার গোপন সংবাদ পায় পুলিশ। এসি লালবাগের নেতৃত্বে তাৎক্ষণিক অভিযানে চক্রের মূলহোতা তৈয়ব আলীকে গ্রেফতার করা হলেও অন্যরা পালিয়ে যায়। পরে তৈয়বের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উত্তরখান ও বিমানবন্দর এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাভেল সর্দারসহ বাকি পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়।

পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃতদের তথ্যের ভিত্তিতে ১৫ আগস্ট ভোরে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে অভিযান চালিয়ে ইমরান হোসেনের বোনের বাসা থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও ৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। একই দিন সকালে ধানমন্ডি এলাকা থেকে তৈয়বের মালিকানাধীন ডাকাতিতে ব্যবহৃত প্রাইভেট কারটি জব্দ করে পুলিশ।
অপরাধের ধরন ও মামলার তথ্য:

ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, এই চক্রটি নিজেদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ডাকাতি ও দস্যুতা করে আসছিল। গ্রেফতারকৃত তৈয়ব আলী সর্দারের বিরুদ্ধে হত্যা ও ডাকাতিসহ ৪৫টি মামলা এবং ৫টি গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। গত মে মাসে যাত্রাবাড়ী এবং ১৩ জুলাই কুড়িল বিশ্বরোড ফ্লাইওভারে ঘটে যাওয়া ডাকাতির ঘটনার সাথেও তারা সরাসরি জড়িত ছিল বলে স্বীকার করেছে।

এ ঘটনায় কামরাঙ্গীরচর থানায় একটি ডাকাতির প্রস্তুতির মামলা এবং নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানায় পৃথক একটি অস্ত্র মামলা দায়ের করা হয়েছে। চক্রের অন্যান্য পলাতক সদস্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা