শুক্রবার | সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
প্রচ্ছদ সারাদেশ সৈয়দপুরে পড়ালেখা ও সহশিক্ষায় অনন্য প্রতিষ্ঠান সানফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজ

সৈয়দপুরে পড়ালেখা ও সহশিক্ষায় অনন্য প্রতিষ্ঠান সানফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজ

শাহজাহান আলী মনন, সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি : পাবলিক পরীক্ষায় ঈর্ষণীয় সাফল্যের ধারা বজায় রেখে সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তালিকায় নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেছে নীলফামারীর সৈয়দপুরের ঐতিহ্যবাহী সানফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজ। আন্তর্জাতিক সেবাসংঘের অন্তর্ভুক্ত লায়ন্স ক্লাব অব সৈয়দপুর সানফ্লাওয়ার পরিচালিত এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি।

কেবল একাডেমিক ফলাফলই নয়, মেধার বহুমুখী বিকাশ ও সহশিক্ষামূলক কার্যক্রমেও অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছে। প্রতিষ্ঠানটির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, তারা শুধু মেধাবী শিক্ষার্থীদের নিয়ে মেতে থাকে না, বরং পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের নিবিড় যত্ন দিয়ে মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনতে বিশেষ কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।

জানা যায়, ১৯৯১ সালে শহরের কয়ানিজপাড়ায় গড়ে তোলা হয় এই প্রতিষ্ঠানটি। প্লে থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান করনো হয় এখানে। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পাবলিক পরীক্ষাগুলোতে সাফল্য দেখিয়ে আসছে তারা। এ বছরের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে পুরো উপজেলায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে এক অনন্য চমক দেখিয়েছে এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। আর প্রথম হওয়ার গৌরব অর্জন করে সৈয়দপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ।

উপজেলার ৩০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তীব্র প্রতিযোগিতার মধ্যে সানফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে অংশ নেওয়া ১০৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১০৭ জনই সফলতার সাথে উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৯৯ দশমিক ০৭ শতাংশ। শুধু পাসের হারই নয়, মেধার সর্বোচ্চ স্বীকৃতি হিসেবে এই প্রতিষ্ঠান থেকে রেকর্ড সংখ্যক ২৪ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে তুমুল উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে।

এই ঈর্ষণীয় অর্জনের পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছে পিছিয়ে পড়া ও তুলনামূলক কম নম্বর পাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য নেওয়া প্রতিষ্ঠানের ‘বিশেষ রেমেডিয়াল ও মেন্টরিং ক্লাস’ ব্যবস্থা। নিয়মিত অতিরিক্ত ক্লাস, ওয়ান-টু-ওয়ান কাউন্সেলিং এবং দুর্বলতার জায়গাগুলো চিহ্নিত করে সহজ পদ্ধতিতে পড়ানোর ফলে সেই শিক্ষার্থীরাও চূড়ান্ত পরীক্ষায় চমৎকার ফলাফল করতে সক্ষম হয়েছে।

শুধু এ বছরই নয় প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ফলাফলের দিক থেকে তারা চমক দেখিয়ে আসছে। ২০০৫ সালে এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে রাজশাহী বিভাগে অর্থাৎ রাজশাহী বোর্ডে সেরা ১০ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রথম হিসাবে নির্বাচিত হয়। এছাড়া ২০১৩ ও ২০১৪ সালে পরপর দুইবার এসএসসি পরীক্ষায় দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের সেরা ১০ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করে। এ জন্য শিক্ষা মন্ত্রলায় তাদের ১ লাখ করে মোট ২ লাখ টাকা পুরুষ্কার দেয়।

শুধু তাই নয় প্রতি বছর প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত সকল স্তরের বৃত্তি পরীক্ষায় সাফল্যের ঝুলিতে তাদের রয়েছে গৌরবময় অর্জন। এছাড়া প্রতিবছর মেডিকেল, ইঞ্জিনিয়ারিংসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ার সুযোগ পায়।

প্রতিষ্ঠানটির এই শ্রেষ্ঠত্ব কেবল পরীক্ষার খাতা কিংবা জিপিএ-৫ এর বৃত্তেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং মাঠের লড়াই ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও তাদের দাপট সমান উজ্জ্বল। পড়াশোনায় একটু পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীরাও যাতে খেলাধুলা, বিতর্ক, দেয়ালিকা প্রকাশ কিংবা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নিজের আত্মবিশ্বাস ফিরে পায়, সেই সুযোগ তৈরিতে বরাবরই আন্তরিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ।

চলতি বছরেই বিভিন্ন জাতীয় দিবস সরকারের শিক্ষা অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন দপ্তরের উদ্যোগে নেওয়া প্রতিযোগিতায় প্রায় ২০ টি পুরুস্কার প্রাপ্ত হয়। সেগুলোর মধ্যে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে উপজেলা পর্যায়ে এই প্রতিষ্ঠানটি একযোগে ৮টি ভিন্ন ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে তাদের বহুমুখী প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছে।

শিক্ষা সপ্তাহে বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের মেধা ও সুপ্ত সৃজনশীলতার অন্যতম বড় মাধ্যম ‘দেয়ালিকা’ প্রতিযোগিতায় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক উভয় গ্রুপেই এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা প্রথম স্থান অধিকার করে উপজেলা জুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে। কুইজ প্রতিযোগিতায় জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় শ্রেষ্ঠ নির্বাচিত হয়ে জাতীয় পর্যায়ে অংশ নিয়ে সারা দেশের মধ্যে র‍্যাংকিংয়ে চতুর্থ হয়।

এছাড়া ভূমি অফিস আয়োজিত কুইজ প্রতিযোগিতায় দুই জন শিক্ষার্থী প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে। দুর্নীতি দমন কমিশনের সহযোগিতায় ও উপজেলা দূর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি আয়োজিত বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রতিপক্ষদল ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুলকে হারিয়ে চাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। হামদ- নাত ও আযান প্রতিযোগিতায় বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে জাতীয় পর্যায়ে অংশ নেয়। সর্বশেষ গত ১০ আগস্ট সাংস্কৃতিক মন্ত্রনালয় ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি আয়োজিত চিত্রাঙ্গন প্রতিযোগিতায় জেলা পর্যায়ে এক শিক্ষার্থী প্রথম পুরুস্কার পায়।

এবারে এসএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী মালিহা মেহেজাবিন জানায়, জিপিএ-৫ পাওয়াটা সব শিক্ষার্থীরই একটি স্বপ্ন থাকে। আমারও ছিল। শিক্ষক ও বাবা-মায়ের অনুপ্রেরণা ও সর্বপরি নিজের চেষ্টায় এ ফলাফল করা সম্ভব হয়েছে। বিশেষ করে আমাদের এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকমন্ডলীর পাঠদান কৌশল কিছুটা ভিন্ন। বিশেষ রেমেডিয়াল ও মেন্টরিং ক্লাস ব্যবস্থায় পাঠদান করানো হয়। আমরা যদি একদিনও ক্লাসে অনুপস্থিত থাকি তাহলে দেখা যায় শিক্ষকরা আমাদের বাসায় গিয়ে স্কুলে না যাওয়ার কারণ সম্পর্কে খোঁজ-খবর নেন। প্রয়োজনে বাসায় গিয়ে স্যাররা পড়া বুঝিয়ে দেন।

এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ মোখলেছুর রহমান জুয়েল বলেন, লায়ন্স ক্লাব অব সৈয়দপুর সানফ্লাওয়ারের একটি স্থায়ী প্রকল্প হিসেবে পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানটির ধারাবাহিক সাফল্যের পেছনে রয়েছে নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনা. পরিচালনা পর্ষদের দক্ষ তদারকি, শিক্ষকদের আন্তরিকতা, আধুনিক ডিজিটাল পাঠদান পদ্ধতি এবং প্রতিটি শিক্ষার্থীর মানসিক ও একাডেমিক অগ্রগতির ওপর আলাদা নজরদারি। এসব কার্যক্রম দৃঢ়তার সাথে বজায় রাখার কারণেই আজ আমরা সাফল্যের এই শিখরে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছি।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা