রানা মিয়া: রাজধানীর পল্লবী থানায় দায়ের হওয়া একটি ধর্ষণ ও অপহরণ মামলাকে কেন্দ্র করে এলাকায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। মামলার পর আসামি পক্ষের বড় ভাই বাদী হয়ে বাদীপক্ষের বিরুদ্ধে মালামাল লুট, হয়রানি এবং মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগ তুলেছেন। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
নতুন অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মামলার আসামি বিল্লাল হোসেনের বড় ভাই মোঃ আব্বাস (৪২) পল্লবী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। এতে তিনি অভিযোগ করেন, তার ভাই বিল্লাল হোসেন তার স্ত্রীসহ পল্লবী এলাকায় একটি বাসায় সাবলেট ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন। একই বাসায় স্বপ্না আক্তার ও তার মেয়ে বসবাস করতেন।
অভিযোগে বলা হয়, গত ১৫/০৫/২০২৬ তারিখে বিল্লাল হোসেন তার স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে গেলে পরবর্তীতে বাদীপক্ষ তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করে, যা পরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর আওতায় রুজু হয়।
আসামি পক্ষের দাবি, মামলার পর বাদীপক্ষ বাসা ত্যাগ করে চলে যায় এবং এ সময় বিল্লাল হোসেনের রুমে থাকা আসবাবপত্র, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যাওয়া হয়। পরে মালামাল ফেরত চাইলে বাড়িওয়ালা অতিরিক্ত অর্থ দাবি করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এছাড়া অভিযোগে আরও বলা হয়, ০১নং বিবাদী স্বপ্না আক্তার আসামিপক্ষের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে গালিগালাজ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। এ সংক্রান্ত একটি অডিও রেকর্ড তাদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলেও দাবি করা হয়। ওই ঘটনার পর আসামির স্ত্রী নিরাপত্তাজনিত কারণে গ্রামের বাড়িতে চলে যান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
আসামি পক্ষ আরও দাবি করে, বাদীপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তারা আপত্তিকর ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বাদীপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। উভয় পক্ষের অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এই প্রতিবেদকের পক্ষ থেকে মামলার বিষয়ে বক্তব্য জানতে বাদীপক্ষের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি আপত্তিকর ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।
এদিকে, পল্লবী থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) উপ-পরিদর্শক হুমায়ুন আহমেদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে বাড়ির মালিক তারেক হোসেন লিটুর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
উক্ত ঘটনার বিষয়ে জানতে আসামি বিল্লাল হোসেনের স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তার স্বামী নির্দোষ এবং তাকে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানো হয়েছে। তিনি দাবি করেন, তার স্বামী কখনোই এমন কোনো ঘটনার সঙ্গে জড়িত হতে পারেন না। তার ভাষায়, “আমার স্বামীকে আমি সবচেয়ে ভালোভাবে চিনি। সে এমন কাজ করতে পারে না। আমি আমার স্বামীর মুক্তি চাই। আমার গর্ভে তার সন্তান রয়েছে। আমার স্বামীর কিছু হলে আমি কোথায় গিয়ে দাঁড়াব—আপনারা বলেন। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একই ঘটনার পর একাধিক মামলা ও পাল্টা অভিযোগ দায়ের হওয়ায় বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের মামলায় নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রমাণ-ভিত্তিক যাচাই ছাড়া কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়।
