কক্সবাজার প্রতিনিধি: দীর্ঘ সময় ধরে জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই শেষে শেষ পর্যন্ত বাঁচানো গেল না টেকনাফে পাহাড় থেকে পড়ে গুরুতর আহত হওয়া মা হাতিটিকে। বন বিভাগ, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা সত্ত্বেও রোববার প্রাণ হারায় সংরক্ষিত এ বন্যপ্রাণীটি। ঘটনাটি পরিবেশপ্রেমী, বন্যপ্রাণী গবেষক এবং স্থানীয়দের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে।
শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে কক্সবাজারের টেকনাফ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর নাইট্যংপাড়া এলাকার শিয়াল্যাঘোনা পাহাড় থেকে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হয় বিশাল আকৃতির একটি বন্য মা হাতি। দুর্ঘটনায় হাতিটির পেছনের দুটি পা মারাত্মকভাবে জখম হয়। আঘাতের তীব্রতায় সে আর দাঁড়াতে পারেনি এবং ঘটনাস্থলেই অসহায় অবস্থায় পড়ে ছিল।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে টেকনাফ রেঞ্জের বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উদ্ধার ও চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করেন। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পশুচিকিৎসকের মাধ্যমে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দলকেও ঘটনাস্থলে আনা হয়। হাতিটির শারীরিক অবস্থা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, পাহাড় থেকে পড়ে হাতিটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে। বিশেষ করে পেছনের দুটি পায়ে মারাত্মক ক্ষতি হওয়ায় সে আর উঠে দাঁড়াতে পারেনি। চিকিৎসা চলাকালে অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত হাতিটি মারা যায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আহত অবস্থায় হাতিটির অসহায় ছটফটানি দেখে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। বন বিভাগের আহ্বানে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে এলাকাবাসী উদ্ধার কার্যক্রমে সহযোগিতা করেন।
পরিবেশবিদদের মতে, বন্য হাতি বাংলাদেশের সংরক্ষিত ও সংকটাপন্ন বন্যপ্রাণীর অন্যতম। পাহাড়ি বনাঞ্চলে মানুষের ক্রমবর্ধমান অনুপ্রবেশ, আবাসস্থল সংকুচিত হওয়া, খাদ্যসংকট এবং দুর্ঘটনাসহ বিভিন্ন কারণে হাতির মৃত্যু উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। এ ধরনের প্রতিটি মৃত্যু দেশের জীববৈচিত্র্যের জন্য বড় ক্ষতি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাতির স্বাভাবিক বিচরণপথ সংরক্ষণ, বনাঞ্চলে অবৈধ দখল ও প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং বন্যপ্রাণী উদ্ধার ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও শক্তিশালী করা এখন সময়ের দাবি।
টেকনাফের শিয়াল্যাঘোনা পাহাড়ে আহত মা হাতিটির মৃত্যু আবারও মনে করিয়ে দিল—প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ না নিলে এমন হৃদয়বিদারক ঘটনা ভবিষ্যতেও ঘটতে পারে। একটি সংরক্ষিত প্রাণীর মৃত্যু শুধু একটি প্রাণের অবসান নয়; এটি আমাদের বন, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্যও অপূরণীয় ক্ষতি।
৬৫
