মোঃ মনজুর মোল্লা : আসন্ন শুভ জন্মাষ্টমী সুষ্ঠু, সুন্দর ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্যাপন উপলক্ষে সার্বিক নিরাপত্তা, আইন-শৃঙ্খলা এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে বিশেষ সমন্বয় সভা করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। সভায় জন্মাষ্টমীর শোভাযাত্রায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থার আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি নির্ধারিত রুট ও সময়ের মধ্যে অনুষ্ঠান সম্পন্ন করার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্সের সম্মেলন কক্ষে এ সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মোঃ শফিকুল ইসলাম বিপিএম, পিপিএম এতে সভাপতিত্ব করেন।
সভায় জানানো হয়, আগামী ৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিতব্য শুভ জন্মাষ্টমীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিএমপির তরফ থেকে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠে থাকবে:
বিশেষায়িত টিম: সোয়াট (SWAT), বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, ডিবি এবং সাদা পোশাকে গোয়েন্দা টিম।
টহল ও নজরদারি: সিসিটিভি ক্যামেরা, পিকেট পার্টি, টহল পার্টি, ফুট পেট্রোল, রুফটপ পুলিশ এবং হোন্ডা মোবাইল।
শৃঙ্খলা রক্ষা: ট্রাফিক পুলিশ এবং নিরাপত্তা লাইনিং ফোর্স।
সভাপতি মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেন, “মহানগরীর জন্মাষ্টমী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান উৎসব। উৎসবের প্রতিটি মুহূর্ত আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সবার সম্মিলিত সহযোগিতায় অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে।” তিনি জানান, ডিএমপির প্রতিটি বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) সংশ্লিষ্ট উদ্যাপন কমিটির সঙ্গে পৃথক সমন্বয় সভা করবেন।
নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় ডিএমপির পক্ষ থেকে কিছু বিশেষ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে:
১. সময় ও রুট নির্দেশিকা: নির্ধারিত পথ ও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই শোভাযাত্রা সম্পন্ন করতে হবে।
২. ধর্মীয় অনুভূতি ও পরিবেশ: আজান ও নামাজের সময় লাউড স্পিকার বা মাইক বাজানো বন্ধ রাখতে হবে।
৩. স্বেচ্ছাসেবক পরিচালনা: আয়োজক কমিটিকে পর্যাপ্ত নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ দিতে হবে এবং তাদের জন্য নির্ধারিত বিশেষ ‘ভেস্ট’ পরিধান বাধ্যতামূলক।
৪. সচেতনতা ও সতর্কতা: শোভাযাত্রায় ব্যাগ বা পোটলা নিয়ে অংশ নেওয়া যাবে না। কোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি বা বস্তু নজরে এলে তাত্ক্ষণিক পুলিশকে অবহিত করতে হবে। এছাড়া বৈদ্যুতিক লাইন সংক্রান্ত দুর্ঘটনা এড়াতে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সভায় ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (অপারেশনস) মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ, পিপিএম সার্বিক নিরাপত্তা পরিকল্পনার ওপর একটি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন।
উক্ত সমন্বয় সভায় ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (এস্টেট, ডেভেলপমেন্ট ও আইসিটি) মোহাম্মদ ওসমান গণি, পিপিএম সহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাগণ, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, ঢাকা মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি, রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন এবং ইসকন বাংলাদেশের শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
