মো.নূর আলম ভূইয়া : রাজধানীতে সর্বমোট ৫ লাখ অটোরিকশার চূড়ান্ত লাইসেন্স বা সিলিং নির্ধারণের দাবি সহ ১০ দফা দাবীতে সমাবেশ করেছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা মালিক—শ্রমিকদের সংগঠন। ঢাকা মহানগর ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা মালিক—শ্রমিক ঐক্য পরিষদ ও যাত্রাবাড়ী অটোরিকশা মালিক—শ্রমিক ঐক্য পরিষদের যৌথ আয়োজনে মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১ টায় যাত্রাবাড়ীর কাজলায় এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন যাত্রাবাড়ী থানা কমিটির সভাপতি সাইদুল মোল্লা। প্রধান অতিথি ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি এস এম আবু বকর। এ সময় উপস্থিত নেতৃবৃন্দ সরকারের কাছে ১০ দফা দাবি উপস্থাপন করেন।
ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা পুরোপুরি বন্ধ না করে আধুনিকায়ন, নিবন্ধন, ফিটনেস, চালকদের প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্স, নির্দিষ্ট রুট এবং পৃথক লেনের মাধ্যমে একটি সুশৃঙ্খল পরিবহন ব্যবস্থার আওতায় আনা সম্ভব। এ বিষয়ে সরকার সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এস এম আবু বকর সরকারের কাছে নিম্ন রুপ ১০ দফার একটি রূপরেখা উত্থাপন করেন।
১. বুয়েটের ডিজাইন অনুযায়ী রিকশার আধুনিকায়ন ও ফিটনেস সার্টিফিকেশন যা অটোরিক্সা কে আধুনিকায়ন ও নিরাপদ করে তুলবে। ২. বাণিজ্যিক লাইসেন্স ও জোনভিত্তিক রুট পারমিট। ৩. চালকদের জন্য ট্রাফিক প্রশিক্ষণ ও বিশেষ ড্রাইভিং লাইসেন্স অথবা সিটি কর্পোরেশনের রুট পারমিট দিতে হবে। ৪. প্রতিটি গ্যারেজে ডি—৩ ক্যাটাগরিতে বিদ্যুৎ সংযোগ নিশ্চিত করা ৫. গ্যারেজ থেকে সরকারের বিদ্যুতের যথাযথ রাজস্ব আদায় ও বিদ্যুৎ সাশ্রয় নিশ্চিত করা। ৬. সিটি কর্পোরেশনের প্রধান সড়কে পৃথক ‘লো—স্পিড লেন’ নির্ধারণ প্রধান সড়কগুলোর বাম পাশে ব্যারিকেড বা মার্কিংয়ের মাধ্যমে নির্দিষ্ট ‘ধীরগতির যান্ত্রিক লেন’ বা লো—স্পিড লেন অথবা সার্ভিস লেন তৈরির প্রস্তাব করা। ৭. পরিবহন ব্যবস্থার আইনি কাঠামোয় অটোরিকশাকে সংযুক্ত করা। অটোরিকশাকে সড়ক পরিবহন আইনের অধীনে এনে সিটি কর্পোরেশন বা বিআরটিএ এবং স্থানীয় সরকারের মাধ্যমে একটি স্থায়ী ও পূর্ণাঙ্গ আইন তৈরি করা। ৮. জাতীয় মহাসড়কের সঙ্গে সংযুক্ত ঢাকা সিটির প্রধান সড়কের বাম পাশে স্থায়ী ডিভাইডার দিয়ে অটোরিকশার জন্য আলাদা লেন নির্ধারণ। ঢাকা শহরের হাইওয়ে—সংযুক্ত প্রধান সড়ক গুলোর মধ্যে গাবতলী, যাত্রাবাড়ী ও উত্তরাসহ সংশ্লিষ্ট এলাকায় সড়কের একেবারে বাম পাশে হলুদ রঙের প্লাস্টিক বা কংক্রিটের ছোট ছোট বর্ডার বা ফিজিক্যাল ডিভাইডার দিয়ে ৭ থেকে ৮ ফুটের একটি ডেডিকেটেড লোকাল লেন তৈরি করা। ৯. জোন বাতিল করে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন বিভক্ত করা এবং ৫ লাখ অটোরিকশা সিলিং নির্ধারণ। সারাদেশের মেগাসিটিগুলোর ট্রাফিক মডেল অনুযায়ী ঢাকায় সর্বমোট ৫ লাখ অটোরিকশার চূড়ান্ত লাইসেন্স বা সিলিং নির্ধারণের দাবি করা হয়েছে। ১০. সড়ক ব্যবস্থাপনায় মালিক—শ্রমিক প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ
এসব দাবির সাথে মিল রেখে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ বলেন, অটোরিকশা শ্রমিকদের ওপর সকল প্রকার শোষণ, নিপীড়ন, জুলুম, চাঁদাবাজি এবং অযথা ‘ডাম্পিং’ নামক হয়রানি করে সড়ক ব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পনা কমিটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এ ছাড়া সংগঠনগুলোকে আইনি প্রক্রিয়ায় ট্রেড ইউনিয়ন বা অন্যান্য সংস্থার মাধ্যমে নিবন্ধন দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। দেশের অর্থনৈতিক ও মানবিক দিক বিবেচনায় ব্যাটারি চালিত যানবাহনের পুঁজিকে নিরাপদ করে পর্যায়ক্রমে প্যাডেল চালিত যানবাহনের অমানবিক শ্রম থেকে মানুষকে মুক্ত করার দাবি জানানো হয়।
এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক ও ঢাকা মহানগর কমিটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ।
