মঙ্গলবার | সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬
প্রচ্ছদ সারাদেশঢাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সিআইডির সাইবার সচেতনতা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সিআইডির সাইবার সচেতনতা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

মোঃ মনজুর মোল্লা, ঢাকা : ‘চিন্তা করে ক্লিক করুন; সাইবার জ্ঞানই আপনার সেরা নিরাপত্তা’—এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) রোকেয়া হল অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হলো ‘সাইবার সচেতনতাবৃদ্ধি কর্মসূচি’। একটি ভুল ক্লিক বা অসতর্কভাবে পিন-ওটিপি শেয়ারের ফলে তৈরি হওয়া আর্থিক, সামাজিক ও ব্যক্তিগত ঝুঁকি এড়াতে এবং দায়িত্বশীল ডিজিটাল আচরণ গড়ে তুলতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।

বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি)-এর আয়োজনে, রোকেয়া হলের সহযোগিতায় ও বিকাশ লিমিটেডের পৃষ্ঠপোষকতায় অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে হলের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শ্রেণির ছাত্রীরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রোকেয়া হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. হোসনে আরা বেগম। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের ভারপ্রাপ্ত ডিআইজি মো. সাইফুদ্দিন শাহীন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাইবার ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড অপারেশনসের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. জাহিদুল ইসলাম, বিপিএম-সেবা। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিকাশ লিমিটেডের এক্সটার্নাল অ্যাফেয়ার্স বিভাগের প্রধান ও এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট এ কে এম মনিরুল করিম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভারপ্রাপ্ত ডিআইজি মো. সাইফুদ্দিন শাহীন বলেন, “বর্তমান প্রজন্ম বাস্তব ও ডিজিটাল—দুই জগতেই বাস করছে। সচেতনতাই সাইবার নিরাপত্তার প্রধান হাতিয়ার।” তিনি শিক্ষার্থীদের শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার, পিন ও ওটিপি গোপন রাখা, অপরিচিত লিংকে ক্লিক না করা এবং অতিরিক্ত ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার না করার পরামর্শ দেন। সাইবার হয়রানি বা প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
মূল প্রবন্ধে অতিরিক্ত ডিআইজি মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, সাইবার অপরাধীরা প্রযুক্তির চেয়ে মানুষের অসতর্কতার সুযোগ বেশি নেয়। তাই তথ্য যাচাইয়ের অভ্যাস ও আত্মনিয়ন্ত্রণই হলো সাইবার নিরাপত্তার কার্যকর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিকাশের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট এ কে এম মনিরুল করিম বলেন, ডিজিটাল আর্থিক সেবা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে প্রতারণার কৌশলও বদলাচ্ছে। তবে সচেতনতা দিয়ে এসব ঝুঁকি সহজেই মোকাবিলা করা সম্ভব।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. হোসনে আরা বেগম শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে বলেন, কোনো ধরনের সাইবার হয়রানির শিকার হলে প্রতিবাদ ও অভিযোগ জানাতে হল প্রশাসন সবসময় শিক্ষার্থীদের পাশে থাকবে।

কর্মসূচিতে সাইবার হ্যারাসমেন্ট, অনলাইন ব্ল্যাকমেইল, পরিচয় জালিয়াতি ও অনলাইন প্রতারণা প্রতিরোধের বিভিন্ন উপায় তুলে ধরা হয়। আলোচনা শেষে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা সাইবার নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা বিষয়ে সরাসরি প্রশ্ন করার সুযোগ পান এবং অতিথিরা সেসব প্রশ্নের দিকনির্দেশনামূলক উত্তর দেন

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা