রিয়াজ উদ্দিন, কক্সবাজার প্রতিনিধি
কক্সবাজারের একটি রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে মহিলা মক্তবের ওপর পাহাড়ধসে অন্তত ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই নারী ও শিশু। টানা ভারী বর্ষণের কারণে বুধবার (৮ জুলাই) এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কয়েকজন চাপা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে উদ্ধার অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রতিদিনের মতো সকালে রোহিঙ্গা নারী ও শিশুরা মক্তবে কোরআন শিক্ষা গ্রহণ করছিলেন। এ সময় পাশের পাহাড়ের একটি বড় অংশ ধসে মক্তবটির ওপর এসে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে পুরো ঘরটি মাটিচাপা পড়ে গেলে ভেতরে থাকা সবাই আটকা পড়েন।
ঘটনার পরপরই স্থানীয় রোহিঙ্গারা উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে ফায়ার সার্ভিস, স্বেচ্ছাসেবক ও সংশ্লিষ্ট উদ্ধারকারী সংস্থার সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন। উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে হতাহতদের উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠান।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানান, স্থানীয়রা প্রথমেই উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের দুটি দল উদ্ধার অভিযানে যোগ দেয়। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাহাড়সংলগ্ন একটি ইটের দেয়াল ধসে পড়ায় উদ্ধারকাজ আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কয়েকদিনের টানা ভারী বৃষ্টিতে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় এ ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও উদ্ধারকারীরা সম্ভাব্য জীবিতদের উদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এদিকে, দুর্ঘটনার পর পুরো আশ্রয়শিবিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিখোঁজদের স্বজনদের আহাজারিতে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত হতাহতের চূড়ান্ত সংখ্যা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।
