বরগুনা থেকে এসএম সুমন রশিদ,আমতলী : বরগুনার আমতলী উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নে মো: আ: লতিফ খাঁনসহ ৬’জনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে ৮নং ওয়ার্ডের এলাকাবাসী।মঙ্গলবার সকাল ১১ টায় পূর্বচিলা তালিমুল কোরআন নুরানী মাদ্রাসার সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয় । মো: আরিফ বিশ্বাস এর সভাপতিত্বে বেলা ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত ঘন্টাব্যাপী চলে এ মানববন্ধন।
জানাগেছে, আমতলী উপজেলার পূর্বচিলা গ্রামে গত ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাত আনুমানিক দুই থেকে তিনটার মধ্যে একটি বসতী টিনের ঘড় কোপানো ও নাড়াখ্যারের কুটার কুরের অগ্নিকান্ডকে কেন্দ্র করে মোসা: মমতাজ বেগম আমতলী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্টেট আদালত-৩ এ ছয়জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন। যাহার মামলা নং-১৫২৬/২৬ । আসামীরা হলেন ০১। আ: লতিফ খাঁন(৫৫), ০২। মো: শাহজাহান খাঁন(৫৯), ০৩। মো: দুলাল বয়াতী(৪০), ০৪। মো: আনেচ গাজী(৪৮), ০৫। মো: জুয়েল গাজী(৩০), ০৬। মো: রাজ্জাক(৩৮) সর্ব সাং পশ্চিম চিলা, ০৪ নং হলদিয়া ইউপি, থানা-আমতলী, জেলা-বরগুনা। ওই মামলাকে মিথ্যা ও হয়রানীমূলক বলে সাব্যস্ত করিয়া এলাকার সর্বস্তরের জনগন মোসা: মমতাজ বেগমের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেন।
মানববন্ধনে সমাজসেবক ও ওই নুরানী মাদরাসার সেক্রেটারী মো: আরিফ বিশ্বাস বলেন – ঘড় কোপানো ও নাড়াখ্যারের কুটার কুরের আগুন একটি সাজানো নাটক, এই মামলার আসামীরা কেহই ঘটনার সাথে যুক্ত নয়। এই মামলার এক আসামী ঢাকায় থাকেন গত কুরবানীর ঈদে বাড়িতে এসেছিলেন তার পরে আর আসেননি তাকেও আসামী করা হয়েছে। বিগত সময়ে আমার মাদরাসার ৩য় শ্রেনীর ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির ঘটনায় অভিযুক্ত মামলায় বাদী মমতাজ বেগমের স্বামী বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। ওই মামলায় যারা স্বাক্ষী দিয়েছেন তাদের বিরুদ্ধেই এই মামলাটি করা হয়েছে। তাই আমরা এই মামলার প্রত্যাহার চাই।
স্থানীয় ইলিয়াস বিশ্বাস বলেন, আমরা মনে করি, হয়রানির উদ্দেশ্যে মামলাটি করা হয়েছে। আমরা মামলাটি প্রত্যাহারের দাবি জানাই।
হারুন বিশ্বাস বলেন, মামলাটি সঠিকভাবে তদন্ত করা হোক। যারা প্রকৃত দোষী, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
আব্দুল হাই মোল্লা অভিযোগ করে বলেন, মমতাজ বেগমের কারণে এলাকাবাসী বিভিন্ন সময় হয়রানির শিকার হচ্ছেন। আমরা এর প্রতিকার চাই।
মামলার এক আসামি মোহাম্মদ আনেস গাজী বলেন, ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমাদের এলাকার একটি বাচ্চা মেয়ের সাথে মমতাজ বেগমের স্বামী অনৈতিক কাজের চেষ্টা করেছে আমরা তার বিরুদ্ধে সাক্ষী দেয় আমাকে আসামি করা হয়েছে। এই মমতাজ বেগম বিজিএফ কার্ডের নাম দেওয়ার কথা বলে আমার কাছ থেকে টাকা নিয়ে কোন নাম দেয়নি। ওই টাকা ফেরত চাইলে আমাকে ভয়ভীতি দেখায়। এরপরই আমাকে মামলায় আসামি করা হয়েছে বলে আমি মনে করি।
প্রতিবেশী সেতারা বেগম বলেন, ঘটনার সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। তারপরও আমার স্বামীকে আসামি করা হয়েছে। আমরা সঠিক তদন্তের মাধ্যমে বিচার চাই।
এদিকে মামলার ১ নং সাক্ষী জাফর গাজী বলেন, রাত দুইটার দিকে ডাক-চিৎকার শুনে মমতাজ বেগমের বাড়িতে যাই। সেখানে কুটার কুরে আগুন জ্বলতে দেখি। আমরা আগুন নেভানোর চেষ্টা করি। তবে কে আগুন দিয়েছে, তা আমরা দেখিনি।
২ নং সাক্ষী মোশারফ গাজীও একই ধরনের বক্তব্য দিয়ে বলেন, ডাকাডাকি শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে কুটার কুরের চারপাশে আগুন জ্বলতে দেখি। তবে কোনো ব্যক্তিকে সেখানে দেখতে পাইনি।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মামলার বাদী মমতাজ বেগম বলেন, আমার স্বামীকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মামলায় জড়িয়ে জেলে পাঠানো হয়েছে। আমার সঙ্গে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। আমার কুটার কুরে আগুন ও ঘরের বেড়া কুপিয়ে ক্ষতি করার ঘটনায় যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আমি মামলা করেছি।
স্থানীয়রা বলেন, মামলাটি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তারা কোনো পক্ষের পক্ষে না গিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং নিরপরাধ কেউ থাকলে তাকে হয়রানি থেকে রক্ষার দাবি জানান।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইয়াকুব হোসাইন বলেন এ ব্যাপারে কোন অভিযোগ পাইনি, অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
