বৃহস্পতিবার | অক্টোবর ৮, ২০২৬
প্রচ্ছদ সারাদেশ ২৬ মাস পর কবর থেকে সেলিম খান ও ছেলে চিত্রনায়ক শান্ত খানের লাশ উত্তোলন

২৬ মাস পর কবর থেকে সেলিম খান ও ছেলে চিত্রনায়ক শান্ত খানের লাশ উত্তোলন

চাঁদপুর থেকে এ কে আজাদ : ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণপিটুনিতে নিহত চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সেলিম খান ও তাঁর ছেলে চিত্রনায়ক শান্ত খানের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে মৃত্যুর প্রায় ২৬ মাস পর বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে ময়নাতদন্তের জন্য তাঁদের মরদেহ উত্তোলন করা হয়।

সকাল ৮টার দিকে চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের খান বাড়ির কবরস্থান থেকে প্রথমে সেলিম খানের মরদেহ উত্তোলন করা হয়। পরে একই স্থান থেকে তাঁর ছেলে চিত্রনায়ক শান্ত খানের মরদেহও উত্তোলন করা হয়। এ সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রত্যয় হাশেম এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা চাঁদ মিয়া উপস্থিত ছিলেন।

চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ জানান, আদালতের নির্দেশ পাওয়ার পর ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ উত্তোলনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চেয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হয়। জেলা প্রশাসকের অনুমোদনের পর বুধবার মরদেহ উত্তোলনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।

দীর্ঘ সময় পর মরদেহ উত্তোলনের বিষয়ে চাঁদপুরের সিভিল সার্জন মোহাম্মদ নূর আল দীন বলেন, মামলার তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার স্বার্থে অনেক সময় কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন করে ময়নাতদন্ত করা হয়। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ায় শরীরে মাংসপেশি না থাকলেও অন্যান্য আলামত ও বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ময়নাতদন্ত ও তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব।

গণপিটুনিতে নিহত হন বাব-ছেলে
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দিন সন্ধ্যায় এলাকা ছাড়ার সময় একটি গাড়িতে ছিলেন সেলিম খান ও তাঁর ছেলে শান্ত খান। তাঁরা চাঁদপুর সদর উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের চাপিলা গ্রামের একটি হাফেজিয়া মাদ্রাসা এলাকায় পৌঁছালে বিক্ষুব্ধ জনতার বাধার মুখে পড়েন। সেখান থেকে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হলেও পরে পাশের বাগড়া বাজার এলাকায় তাঁদের গাড়ি আটকে দেওয়া হয়।

সেখানে উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে সেলিম খান ও শান্ত খান নিহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁদের মরদেহ উদ্ধার করে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সে সময়ের পরিস্থিতিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে তাঁদের গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুর গ্রামের খান বাড়িতে দাফন করা হয়।

এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় একটি মামলা করে। ওই মামলার তদন্ত ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আদালত কবর থেকে মরদেহ দুটি উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেন।

কে ছিলেন সেলিম খান, সেলিম খান চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। রাজনীতির পাশাপাশি তিনি চলচ্চিত্র প্রযোজনা ও পরিবেশনা প্রতিষ্ঠান ‘শাপলা মিডিয়া’র স্বত্বাধিকারী ছিলেন। তাঁর ছেলে শান্ত খানও চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।

সেলিম খানের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ ওঠে। চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি অধিগ্রহণকে কেন্দ্র করে অনিয়মের অভিযোগেও তাঁর নাম আলোচনায় আসে। এ কারণে বিভিন্ন সময়ে তিনি ‘বালুখেকো চেয়ারম্যান’ হিসেবে সমালোচিত হন।
এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগে একাধিক মামলা হয়েছিল। এসব মামলায় তাঁর কারাবাসের ঘটনাও রয়েছে।

মরদেহ উত্তোলনের পর ময়নাতদন্ত ও সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে মামলার তদন্তে নতুন কোনো তথ্য বা আলামত পাওয়া যায় কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা