স্টাফ রিপোর্টার : দেড়শ বছরের ঐতিহ্যবাহী কাওরান বাজারের পাইকারি ও কিচেন মার্কেট স্থানান্তরের খবরে গভীর আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন সেখানকার ব্যবসায়ী ও কর্মরত শ্রমিকরা। কোনো পূর্ব ঘোষণা বা আইনি নোটিশ ছাড়া হঠাৎ মাইকিং করে মার্কেট ছাড়ার নির্দেশ দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা। এমন পরিস্থিতিতে কোনো ধরনের আইনি পদক্ষেপে না গিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মানবিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
৩১ আগস্ট সকালে কাওরান বাজারের ব্যবসায়ীদের পক্ষে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান ডিএনসিসি কাওরান বাজার মার্কেট সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব মোহাম্মদ শাহজান ভূঁইয়া। লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, কাওরান বাজারে প্রায় আড়াই হাজার স্থায়ী দোকান বরাদ্দ রয়েছে। এসব ব্যবসাকে কেন্দ্র করে প্রায় ১০ হাজার পরিবার এবং শ্রমিক, পাইকারি ব্যাপারি ও ক্রেতাসহ প্রায় দশ লাখ মানুষের জীবিকা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। ১৯৮০-এর দশক থেকে স্থায়ী বরাদ্দ পেয়ে ব্যবসায়ীরা ট্রেড লাইসেন্স, ইনকাম ট্যাক্স, ভ্যাট ও সার্ভিস ফি নিয়মিত পরিশোধ করে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আরেক ব্যবসায়ী নেতা মোহাম্মদ বেলাল হোসেন বলেন, “সরকারের পক্ষ থেকে আমাদের কোনো আইনি নোটিশ দেওয়া হয়নি। কিন্তু কে বা কারা এসে হঠাৎ মাইকিং করে জায়গা ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দিচ্ছে, যা আমাদের হতবাক করেছে।”
পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ বা আদালতের দ্বারস্থ হবেন কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে শাহজাহান ভূঁইয়া দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত মানবিক। তিনি সবসময় মেহনতি ও সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ান। আমরা বিশ্বাস করি, তিনি আমাদের এই যৌক্তিক ও মানবিক দাবিগুলো অবশ্যই মেনে নেবেন। আমরা মনে করি, আলোচনার টেবিলেই সব সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান সম্ভব। তাই আপাতত আইনের শরণাপন্ন হওয়ার মতো কোনো কঠোর পদক্ষেপে আমরা যেতে চাই না।”
সংবাদ সম্মেলন থেকে কাওরান বাজারের ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে প্রধান ৩টি দাবি উত্থাপন করা হয়:
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ: উদ্ভূত সংকট নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান ও সরাসরি সাক্ষাতের সুযোগ।
যানজট নিরসনে অবৈধ দখলমুক্ত করা: পেট্রোবাংলা থেকে জনতা টাওয়ার পর্যন্ত রাস্তা, ভিআইপি সংযোগ সড়ক (প্রথম আলো, ওয়াসা, ইত্তেফাক ও হোটেল লাভ ইঞ্চির সামনের সড়ক) অবৈধ দখলমুক্ত করে নির্বিঘ্নে যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করা।
কাওরান বাজারেই আধুনিক পুনর্বাসন: উন্নত বিশ্বের আদলে কাওরান বাজারেই একটি আধুনিক মার্কেট নির্মাণ করে বিদ্যমান আয়তন বজায় রেখে স্থায়ী ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া।
ব্যবসায়ীরা জানান, হুট করে উচ্ছেদ করা হলে প্রায় ১০ লাখ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও জীবিকা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে। তাই উচ্ছেদ না করে কাওরান বাজারের অভ্যন্তরেই আধুনিক মার্কেট নির্মাণ করে তাদের পুনর্বাসনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
