শুক্রবার | সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬
প্রচ্ছদ সারাদেশরংপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা একরামুল হকের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের দাবি

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা একরামুল হকের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের দাবি

রানা মিয়া: রংপুরের পীরগাছা উপজেলায় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের একটি প্রকল্পের আওতায় গঠিত ৭২০ জন প্রডিউসার গ্রুপ (পিজি) সদস্যের নাস্তার বিল বাবদ বরাদ্দকৃত ২ লাখ ৮৮ হাজার টাকা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

প্রকল্পভুক্ত একাধিক সদস্য ও স্থানীয় সূত্রের দাবি, ছয় মাসব্যাপী বিভিন্ন সভা, প্রশিক্ষণ ও সমন্বয় কার্যক্রমের জন্য নির্ধারিত এ অর্থের সুবিধা অধিকাংশ সদস্যই পাননি। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, পিজি সদস্যদের নিয়মিত কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সময় নাস্তা সরবরাহের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই সেই সুবিধা কার্যকরভাবে বিতরণ হয়নি।

অংশগ্রহণকারী একাধিক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তারা নিয়মিত সভা ও প্রশিক্ষণে উপস্থিত থাকলেও অনেক সময়ই নাস্তা পাননি। ফলে বরাদ্দের অর্থ কীভাবে ব্যয় হয়েছে—এ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বরাদ্দকৃত অর্থের ব্যয় সংক্রান্ত তথ্য স্বচ্ছভাবে প্রকাশ করা হয়নি এবং সুবিধাভোগীদের কাছে তা যথাযথভাবে পৌঁছেছে কি না, সে বিষয়েও স্পষ্টতা নেই। এ কারণে প্রকল্পের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও হিসাবরক্ষণ প্রক্রিয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।

সূত্রগুলো আরও জানায়, ছয় মাসে ৭২০ জন সদস্যের জন্য নাস্তার খাতে মোট ২ লাখ ৮৮ হাজার টাকা বরাদ্দ ছিল। সেই অনুযায়ী প্রতিটি সভা বা কার্যক্রমে ব্যয়ের সুনির্দিষ্ট হিসাব থাকা উচিত হলেও বাস্তব ব্যয় ও নথিপত্রের মধ্যে কোনো অসামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের প্রয়োজন রয়েছে বলে তারা মনে করেন।

এদিকে অভিযোগের মধ্যেই পীরগাছা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. একরামুল হক মণ্ডলের বদলি নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগকারীদের একটি অংশের দাবি, অনিয়ম সংক্রান্ত অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পরপরই তার বদলির বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি এবং বদলির কারণ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. একরামুল হক মণ্ডল বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয় বলে ফোন কেটে দেন। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে তিনি অনাগ্রহ প্রকাশ করেন।

এ বিষয়ে জেলা ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা