পিরোজপুর থেকে এস,এম সিপার : পিরোজপুরের নেছারাবাদে কাঠবোঝাই ভ্যানগাড়ি উল্টে গোলকাঠের ওপর পড়ে মোঃ স্বপন (৫০) নামে এক দিনমজুর নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তাঁর চার বছরের ছেলে নাঈম গুরুতর আহত হয়েছে। তাকে নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার সোহাগদল ইউনিয়নের হাজীরপুর এলাকায় স্টিলব্রিজের পাশে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত বশির বলদিয়া ইউনিয়নের রাজাবাড়ী গ্রামের মোস্তফা মিয়ার ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, বশির তাঁর চার বছরের ছেলে নাঈমকে সঙ্গে নিয়ে ভ্যানগাড়িতে কাঠ পরিবহন করছিলেন। দুপুরে হাজীরপুর এলাকায় স্টিলব্রিজের উঁচু অংশে ওঠার সময় ভ্যানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে খালের পাড়ে ব্যবসায়ীদের রাখা গোলকাঠের ওপর উল্টে পড়ে। এতে ভ্যানে থাকা কাঠের নিচে চাপা পড়েন বশির। পাশে ছিটকে পড়ে আহত হয় তাঁর ছেলে নাঈম। ঘটনাস্থলেই ভ্যানচালক মারা যান এবং তার পুত্র গুরুতরভাবে আহত হয়।
স্থানীয় দোকানি মোঃ মাসুদ বলেন, স্টিলব্রিজের পাশে তাঁর দোকান। হঠাৎ বিকট শব্দ ও চিৎকার শুনে বাইরে এসে তিনি ভ্যানটি উল্টে গোলকাঠের ওপর পড়ে থাকতে দেখেন। ভ্যানের নিচে বশির চাপা পড়ে ছিলেন এবং পাশে শিশুটিকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে স্থানীয়রা শিশুটিকে উদ্ধার করেন। গুরুতর আহত বশিরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয়রা জানান, বশিরের স্ত্রী ছোট সন্তানকে রেখে অন্যত্র চলে গেছেন। বাড়িতে চার বছরের শিশুটিকে দেখাশোনার মতো কেউ না থাকায় বশির নিয়মিত তাকে সঙ্গে নিয়েই কাজে বের হতেন। তিনি সোহাগদল উপজেলার বছরাকাঠি এলাকার একটি কাঠের দোকান থেকে ভ্যানগাড়িতে কাঠ পরিবহনের কাজ করতেন।
নিহত বশিরের মেয়ে সুবর্ণা হাসপাতালে এসে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আহত নাঈম তাঁর ছোট ভাই। নিহত বশির তাঁর বাবা। তাঁদের মা নেই। তাই বাবা নিয়মিত ছোট ভাইকে সঙ্গে নিয়েই কাজে বের হতেন।
নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক আরিফা সিদ্দিকা বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই বশিরের মৃত্যু হয়েছে। পরে পুলিশ এসে মরদেহ নিয়ে যায়।
নেছারাবাদ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সঞ্জয় মজুমদার বলেন, দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তির মরদেহ থানায় আনা হয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে আইনগত প্রক্রিয়া অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
