রবিবার | অক্টোবর ১৮, ২০২৬
প্রচ্ছদ শিক্ষা বোচাগঞ্জে প্রাইমারি স্কুলে শিক্ষার্থী সংকট, ৫ম শ্রেনী ও ৪র্থ শ্রেনীর দুই শিক্ষার্থী একই ব্র্যঞ্চে ক্লাশ

বোচাগঞ্জে প্রাইমারি স্কুলে শিক্ষার্থী সংকট, ৫ম শ্রেনী ও ৪র্থ শ্রেনীর দুই শিক্ষার্থী একই ব্র্যঞ্চে ক্লাশ

বোচাগঞ্জ (দিনাজপুর) থেকে আশিকুর ইসলাম : স্কুল উন্নয়নের টাকা আত্বসাৎ ও স্কুলে নিওমিত উপস্থিত না হওয়ায় প্রধান শিক্ষক স্বপন চন্দ্র দেব সর্ম্মাকে সাময়িক বরখাস্ত

নেই কোন কোলাহল, নেই শিক্ষার্থীতে হই-হুল্লুল, স্কুল জুড়ে শুনশান নিরবতা। ঘড়ির কাটা তখন ১২টা ৩০ মিনিট। স্কুলে প্রবেশ করে-ই চোখে পড়ল ৫ম শ্রেনী ও ৪র্থ শ্রেনীর দুই শিক্ষার্থী একই ব্র্যঞ্চে বসে লেখাপড়া করছে। ক্লাশ নিচ্ছেন প্রধান শিক্ষিকা নিজেই। পার্শের আরেক কক্ষে ৩য় শ্রেনীর দুই শিক্ষার্থীও ব্যস্ত লেখাপড়ায়। ৩ জন শিক্ষক ও ৪ শিক্ষার্থী নিয়েই চলছে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

দক্ষিন বনগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ঃ এটি দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার রনগাঁও ইউনিয়নের দক্ষিন বনগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাস্তব চিত্র। এ বিষয়ে কথা হয় স্কুলের প্রধান শিক্ষক(ভারপ্রাপ্ত) বিজলী পারভীনের সাথে। তিনি জানান, তার স্কুলে ১ম শ্রেনীতে ০৪ , ২য় শ্রেনীতে ০৫ , ৫ম শ্রেনীতে ০২ ৪র্থ শ্রেনীতে ০২ ও ৩য় শ্রেনীতে ২ জন মোট ১৫ জন শিক্ষার্থী লেখা পড়া করছে। কিন্তু উপস্থিত আছেন বিভিন্ন শ্রেনীর ৪ জন শিক্ষার্থী মাত্র। স্কুলটির অবকাঠামো সুন্দর, শিক্ষার্থী নেই কেন জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক বলেন, আমাদের দক্ষিন বনগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তিন পাশেই আরো তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে যেমন, সাদা মহল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মোবারকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দক্ষিন সাদা মহল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। তাই এই স্কুলে শিক্ষার্থী কম। তিনি আরো জানান, কিন্ডার গার্ডেন স্কুলের প্রভাবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশানুরুপ শিক্ষার্থী হচ্ছে না। কেননা, কিন্ডার গার্ডেন স্কুলের শিক্ষার্থী পরিবহন ব্যবস্থা বাড়ীর দোড় গোড়ায় পৌচ্ছে যাচ্ছে। সামান্য স্বচ্ছল পরিবারের সন্তানেরাও প্রাইভেট স্কুলে লেখাপড়া করছে।

মানিকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ঃ উপজেলার মানিকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেনীর শিক্ষার্থী ৫জন। অদক্ষতার অভিযোগে প্রধান শিক্ষক মোছাম্মত রোকশানা কে পদচ্যুত করে সহকারী শিক্ষক হিসেবে অন্য স্কুলে প্রেরণ করে সেখানে আরেক স্কুলের শিক্ষক সুজন কুমার মহন্ত কে প্রধান শিক্ষকের দ্বায়িত্ব দেয়া হয়। সুজন কুমার মহন্ত ১১মাস মানিকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অবস্থানকালে শিক্ষার্থীর সংখা বেড়ে দাড়ায় ৩৫ এ। কিন্তু তাকেও তার নিজ স্কুলে ফেরৎ পাঠায় উপজেলা শিক্ষা অফিস।

দক্ষিন দেওখড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ঃ এই স্কুলটির একাধীক সমস্যায় আক্রান্ত, স্কুলে শিক্ষার্থী সংকট ও প্রধান শিক্ষক স্বপন চন্দ্র দেব সর্ম্মার দুর্ণীতির অভিযোগে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে, স্কুল উন্নয়নের সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগে।

এ বিষয়ে বোচাগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার(ভারপ্রাপ্ত) রথীন্দ্র নাথ রায়, জানান, বোচাগঞ্জ উপজেলায় মোট ৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী সংকট আছে, রনগাঁও ইউনিয়নের দক্ষিন বনগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মুশিদহাট ইউনিয়নের দক্ষিন দেওখড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও আটগাঁও ইউনিয়নে মানিকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষার্থী সংকটে ভুগছে। আমরা অভিভাবক সমাবেশসহ বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করছি স্কুল তিনটির প্রাণঁচঞ্চলতা ফিরিয়ে আনতে। ইতো মধ্যে মানিকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছাম্মত রোকশানা কে পদচ্যুত করে সহকারী শিক্ষক হিসেবে অন্য স্কুলে প্রেরণ করা হয়েছে। দক্ষিন দেওখড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক স্বপন চন্দ্র দেব সর্ম্মাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে স্কুল ফাকি দেয়া, স্লিপের টাকা ও ক্ষুদ্র মেরামতের টাকা উত্তোলন করে কাজ না করা সহ একাধিক অভিযোগ আছে। খুব দ্রুত সময়ে শিক্ষার্থী সংকট কেটে যাবে।

উপজেলার সচেতন মহল মনে করেন, বোচাগঞ্জ উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকগণের মধ্যে অনেকেই ৩০ কিলোমিটার দুরে দিনাজপুর জেলা শহরে বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করে, যেন তাদের সন্তানেরা নামিদামী স্কুলে লেখাপড়া করতে পারে। তারা কর্মস্থলে এসে চিন্তায় ব্যস্ত থাকে, কখন স্ত্রী সন্তানের কাছে ফিরে যাবে। স্কুল ক্লাষ্টার (এটিও) দের সাথে শিক্ষকদের সাথে অতি সখ্যতা দুরকরতে হবে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শক্তিশালী পরিচালনা কমিটি গঠন করে, পাড়া মহল্লায় উঠোন বৈঠকের মাধ্যমে অভিভাবকদের বুঝাতে হবে প্রাইভেট স্কুলের চাইতে সরকারি স্কুলের গুনগতমান ও শিক্ষা ব্যবস্থা ভাল। যদি তাই করা হয়, তবেই ফিরে আসবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঐতিহ্য।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা