রূপগঞ্জ থেকে মোঃ মাসুদ করিম : নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার তারাব পৌরসভার কুখ্যাত সন্ত্রাসী, রনি হত্যা মামলাসহ ১৮টি মামলার পলাতক আসামি ও কিশোর গ্যাং লিডার শ্রাবণ ওরফে ‘কুত্তা শ্রাবণ’ (২০)-কে তার তিন সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি-১১।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে তারাব পৌরসভা এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এসআরবি-১১-এর অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোহাম্মদ মাসুদ পারভেজ।
অভিযানে গ্রেপ্তারকৃতদের আসামী থেকে ১টি বিদেশি পিস্তল, ১ রাউন্ড গুলি, ১টি ম্যাগাজিন এবং ৬টি বড় রামদা উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত অন্য তিন আসামী হলোঃ- সিয়াম (২০), দিপু (১৯) এবং কামরুজ্জামান (১৯)। তারা সবাই শ্রাবণের গড়ে তোলা সংঘবদ্ধ কিশোর গ্যাংয়ের সক্রিয় সদস্য বলে জানিয়েছে এসআরবি-১১।
এসআরবি-১১ সূত্রে জানা যায়, আসামি শ্রাবণ দীর্ঘদিন ধরে রূপগঞ্জ ও এর আশপাশের এলাকায় একটি সশস্ত্র কিশোর গ্যাং ও সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তুলে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে আসছিল।
সম্প্রতি রূপগঞ্জে ফল ব্যবসায়ী রনিকে নৃশংসভাবে হত্যা করে শ্রাবণ ও তার গ্যাং সদস্যরা। ওই নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর এলাকাবাসী গ্যাং লিডার শ্রাবণের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে।
এছাড়া, পূর্বে দায়েরকৃত মামলা তুলে না নেওয়ায় শ্রাবণ তার অনুসারীদের নিয়ে তারাব পৌরসভার টাটকি এলাকায় মামলার বাদী আমেনা বেগমের বসতবাড়িতে গভীর রাতে আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে হত্যার অপচেষ্টা চালায়।
রূপগঞ্জের স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা প্রকাশ্য দিবালোকে বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালাত। দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, গোলাগুলি ও অস্ত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে এলাকায় চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল এই সন্ত্রাসী বাহিনী। স্থানীয় সাধারণ মানুষের কাছে ‘কুত্তা শ্রাবণ’ ছিল এক আতঙ্কের নাম। তার বিরুদ্ধে হত্যা, হামলা, অগ্নিসংযোগ, অপহরণ ও চাঁদাবাজিসহ মোট ১৮টি মামলা রয়েছে।
এসআরবি-১১ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদের রূপগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। সন্ত্রাস ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে এসআরবি এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে।
