প্রচ্ছদ শিক্ষা আজ থেকে ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু

আজ থেকে ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু

স্টাফ রিপোর্টার : ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের ক্লাস আজ (২৪ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হচ্ছে। এর আগে ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ক্লাস শুরুর কথা ছিল। তবে পবিত্র ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম উপলক্ষে ওই দিন দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি থাকায় ক্লাস শুরুর তারিখ এক দিন পিছিয়ে দেওয়া হয়।

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির প্রথম ধাপের আবেদন শুরু হয়েছিল ২ সেপ্টেম্বর। আবেদন চলে ১০ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত। এ ধাপে মোট ৯ লাখ ৯৫ হাজার ২৩৪ জন শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য আবেদন করেন। এর মধ্যে ৯ লাখ ৮০ হাজার ৮১৫ জন শিক্ষার্থী কলেজে ভর্তির জন্য মনোনয়ন পান।

মনোনীত শিক্ষার্থীদের ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কলেজে সশরীরে উপস্থিত হয়ে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করার সুযোগ দেওয়া হয়। এর আগে ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে প্রথম ধাপের ফল প্রকাশ করা হয়। একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির কেন্দ্রীয় ওয়েবসাইটের পাশাপাশি আবেদন করার সময় দেওয়া মোবাইল নম্বরেও খুদে বার্তার মাধ্যমে ফল জানানো হয়।

ভর্তির সময় শিক্ষার্থীদের এসএসসি পরীক্ষার অনলাইন নম্বরপত্রের কপি, প্রবেশপত্র, দুই থেকে চার কপি সদ্য তোলা রঙিন পাসপোর্ট আকারের ছবি, অনলাইন আবেদন নিশ্চায়নের কপি এবং শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের মোবাইল ফোন নম্বর দিতে হয়েছে।

এবার প্রতিষ্ঠানভেদে একাদশ শ্রেণির ভর্তি ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে ঢাকা মহানগর এলাকায় বাংলা ও ইংরেজি উভয় মাধ্যমে সর্বোচ্চ ভর্তি ফি ৫ হাজার টাকা। ঢাকা ছাড়া অন্যান্য মহানগর ও বিভাগীয় শহরে সর্বোচ্চ ৩ হাজার টাকা, জেলা পর্যায়ে ২ হাজার টাকা এবং উপজেলা ও মফস্বল এলাকার কলেজে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া যাবে।

নন-এমপিও ও আংশিক এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ঢাকা মহানগর এলাকায় বাংলা মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৭ হাজার ৫০০ টাকা এবং ইংরেজি মাধ্যমে ৮ হাজার ৫০০ টাকা ভর্তি ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। জেলা সদর এলাকায় বাংলা মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৩ হাজার টাকা ও ইংরেজি মাধ্যমে ৪ হাজার টাকা এবং উপজেলা ও মফস্বল এলাকায় বাংলা মাধ্যমে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৫০০ টাকা ও ইংরেজি মাধ্যমে ৩ হাজার টাকা নেওয়া যাবে।

ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী, কলেজগুলোর মোট আসনের ৯৩ শতাংশ সবার জন্য মেধার ভিত্তিতে উন্মুক্ত থাকবে। এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে মেধাক্রম তৈরি করে এসব আসনে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হয়েছে।

বাকি ৭ শতাংশ আসনের মধ্যে ৫ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের জন্য এবং ২ শতাংশ শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এর অধীন দপ্তর-সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য সংরক্ষণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই কোটাপদ্ধতি শুধু ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রযোজ্য।

প্রথম ধাপে কোনো কলেজে মনোনয়ন না পাওয়া, আবেদন না করা, নির্বাচিত হয়েও নিশ্চায়ন না করা কিংবা ভর্তি সম্পন্ন করতে না পারা শিক্ষার্থীদের জন্য দ্বিতীয় ধাপে আবেদনের সুযোগ রাখা হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপের অনলাইন আবেদন শুরু হবে ২৭ সেপ্টেম্বর এবং চলবে ২৮ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত।

দ্বিতীয় ধাপের ফল প্রকাশ করা হবে ১ অক্টোবর রাত ৮টায়। নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ১ থেকে ৩ অক্টোবরের মধ্যে নিশ্চায়ন করতে হবে। দ্বিতীয় দফা স্থানান্তরের ফল প্রকাশ হবে ৪ অক্টোবর রাত ৮টায়। এরপর ৫ থেকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত কলেজে চূড়ান্ত ভর্তি কার্যক্রম চলবে।

প্রথম ধাপে আবেদন করেও কোনো কলেজে মনোনয়ন না পাওয়া শিক্ষার্থীদের দ্বিতীয় ধাপে নতুন করে আবেদন ফি দিতে হবে না। তারা অনলাইনে প্রবেশ করে পছন্দক্রম পরিবর্তন করতে পারবেন অথবা নতুন কলেজ যুক্ত করতে পারবেন। এ ধাপে একজন শিক্ষার্থী সর্বনিম্ন পাঁচটি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ পছন্দক্রমে রাখতে পারবেন।

দ্বিতীয় ধাপে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদেরও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিশ্চায়ন করতে হবে। সময়ের মধ্যে নিশ্চায়ন না করলে তাদের নির্বাচন ও আবেদন বাতিল হয়ে যাবে।

আজ (২৪ সেপ্টেম্বর) থেকে প্রথম ধাপে ভর্তি সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীদের কলেজে নিয়মিত পাঠদান শুরু হচ্ছে। আর দ্বিতীয় ধাপে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা পরবর্তী সময়ে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ক্লাসে যোগ দেওয়ার সুযোগ পাবেন।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা