কক্সবাজার থেকে এইচ এন আলম : দেশের বিভিন্ন সড়কে অনুমোদনহীন ও অনিয়ন্ত্রিত ব্যাটারিচালিত গাড়ির সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এসব যানবাহনের অবাধ উৎপাদন ও বাজারজাতের কারণে সড়কে যানজট, দুর্ঘটনা ও বিশৃঙ্খলা বাড়ার পাশাপাশি গণপরিবহন ব্যবস্থাপনাতেও তৈরি হচ্ছে নানা সমস্যা।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বিদ্যমান ব্যাটারিচালিত গাড়ির নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি নতুন করে এসব যানবাহন উৎপাদন বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা শহরের সড়কে এখন ব্যাপকভাবে চলাচল করছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ইজিবাইকসহ বিভিন্ন ধরনের বৈদ্যুতিক যান।
এসব যানবাহনের অনেকগুলোরই নেই যথাযথ নিবন্ধন, রুট পারমিট কিংবা চালকের প্রশিক্ষণ। ফলে সড়কে নিয়ম না মেনে চলাচলের প্রবণতা বাড়ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চাহিদার কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে ব্যাটারিচালিত যানবাহন তৈরির ছোট-বড় কারখানা। উৎপাদন ও বিক্রি অব্যাহত থাকায় সড়কে নতুন নতুন যান যুক্ত হচ্ছে।
এতে নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নিলেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু সড়ক থেকে ব্যাটারিচালিত গাড়ি উচ্ছেদ বা নিয়ন্ত্রণ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। একই সঙ্গে এসব যানবাহনের অবৈধ উৎপাদন, সংযোজন ও বাজারজাত বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি বৈধ যানবাহনের জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা, নিবন্ধন ও চলাচলের নির্ধারিত ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
তারা আরও বলেন, ব্যাটারিচালিত যানবাহন অনেক মানুষের কর্মসংস্থান ও স্বল্প আয়ের মানুষের যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠেছে। তাই হঠাৎ করে সব যান বন্ধ না করে বাস্তবসম্মত নীতিমালার মাধ্যমে ধাপে ধাপে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। তবে নতুন করে অনিয়ন্ত্রিত যানবাহন উৎপাদন বন্ধ না করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দুর্ঘটনা কমাতে চালকদের প্রশিক্ষণ, গাড়ির ফিটনেস পরীক্ষা, নিবন্ধন এবং নির্ধারিত রুটে চলাচল নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে অনুমোদনহীন কারখানায় ব্যাটারিচালিত গাড়ি উৎপাদন বন্ধে অভিযান জোরদার করা প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্টদের অভিমত—নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেওয়ার আগে ব্যাটারিচালিত গাড়ির অনিয়ন্ত্রিত উৎপাদন বন্ধ করা গেলে সড়কে নতুন করে যানবাহন বৃদ্ধির প্রবণতা অনেকটাই কমানো সম্ভব।
