গুইমারা প্রতিনিধি : খাগড়াছড়ি জেলার গুইমারা উপজেলায় পাহাড়ি ও বাঙালি সুবিধাবঞ্চিত মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গুইমারা রিজিয়নের অধীনস্থ সিন্দুকছড়ি জোনের উদ্যোগে এক বিশেষ মেডিকেল ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
দিনব্যাপী এই ক্যাম্পেইনে মাটিরাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত একটি মেডিকেল টিমের মাধ্যমে প্রায়

৪৫০ জন দরিদ্র ও অসহায় রোগীকে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়
। চিকিৎসা চলাকালে রোগীদের জ্বর, সর্দি-কাশি, চক্ষুজনিত সমস্যা, শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ ও চর্মরোগসহ বিভিন্ন মৌসুমি ব্যাধির চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ করা হয়। এছাড়া ডায়রিয়া, আমাশয় ও টাইফয়েডের মতো পানিবাহিত রোগের জন্যও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ওষুধ দেওয়া হয়।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পাশাপাশি সম্প্রতি সিন্দুকছড়ি জোনের তত্ত্বাবধানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্থানীয় নার্সদের একটি দল এই ক্যাম্পেইনে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করেন। প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও সার্বিক সহায়তা প্রদানে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
সেনাবাহিনীর এই কার্যক্রম সম্পর্কে স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধি বলেন, “সিন্দুকছড়ি জোন কর্তৃক পরিচালিত এই মহতী উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। বিশেষ করে সেনাবাহিনী থেকে প্রশিক্ষণ ও মেডিকেল সরঞ্জাম পাওয়া এলাকার তরুণী নার্সদের মাধ্যমে স্থানীয় মানুষ প্রাথমিক চিকিৎসার সুফল পাচ্ছেন।”
বিনামূল্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় ওষুধ পেয়ে গুইমারা এলাকার সুবিধাভোগী সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং সিন্দুকছড়ি জোনের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
এ বিষয়ে সিন্দুকছড়ি জোনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, পাহাড়ের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতেই এই নিয়মিত আয়োজন। এরই ধারাবাহিকতায় খুব শিগগিরই চট্টগ্রাম লায়ন্স হসপিটালের সহযোগিতায় একই স্থানে একটি ‘বিনামূল্যে চক্ষু ক্যাম্পেইন’ এবং পরবর্তীতে পুনরায় বড় পরিসরে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মাধ্যমে ‘মেডিকেল ক্যাম্পেইন’ পরিচালিত হবে। পার্বত্য এলাকার শান্তি, সম্প্রীতি ও জনগণের কল্যাণে সেনাবাহিনীর এমন মানবিক উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি ব্যক্ত করেন।
