বুধবার | সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬
প্রচ্ছদ সারাদেশ রূপগঞ্জে শান্ত হত্যাকাণ্ড, পরোয়ানা নিয়েও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে আসামিরা

রূপগঞ্জে শান্ত হত্যাকাণ্ড, পরোয়ানা নিয়েও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে আসামিরা

রূপগঞ্জ প্রতিনিধি: ফেসবুক লাইভে ছড়িয়ে পড়েছিল হামলার দৃশ্য। প্রকাশ্য সড়কে ঘিরে ধরে ২৫ থেকে ২৬ জনের একটি দল স্থানীয় অস্ত্র দিয়ে বেধড়ক পেটাচ্ছে যুবদল নেতা শান্ত সরকারকে। একপর্যায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় তার মোটরসাইকেলে। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর টানা ১০ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে ২১ এপ্রিল রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে মারা যান তিনি। এরপর হত্যা মামলা হলেও মাস পেরিয়ে যাওয়ার পরও মামলার সব আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে তদন্তের গতি নিয়ে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকা সত্ত্বেও কয়েকজন আসামি প্রকাশ্যেই ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
গত ১১ এপ্রিল বিকেল ৫টার দিকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের দাউদপুর ইউনিয়নের জিন্দা-হিরনাল এলাকায় শান্ত সরকারের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। পরে তার চাচা সালাহউদ্দিন সরকার বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন। মামলায় ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ৭ থেকে ৮ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়। নাম থাকা আসামিদের মধ্যে রয়েছেন দাউদপুর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আসাদ নূর ফকির, শাহিন আকন্দ ও ফরহাদ মোল্লাসহ অন্যরা। মামলার তদন্ত প্রতিবেদন নিয়েই সবচেয়ে বড় আপত্তি বাদীর। সালাহউদ্দিন সরকারের দাবি, থানা পুলিশ যে তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছে, সেটি প্রকৃত হত্যাকাণ্ডের পরিবর্তে ‘মিথ্যা ঘটনার’ ওপর তৈরি করা হয়েছে। প্রকৃত হামলার ঘটনা তদন্তে উঠে আসেনি। এ কারণে তিনি আদালতে নারাজি দেন। পরে আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিতে পাঠান।
বাদীর অভিযোগ, আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকার পরও তারা প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন। স্থানীয়রা তাদের দেখতে পেলেও পুলিশ তাদের ‘দেখছে না’। ফলে পরোয়ানা থাকার পরও আসামিদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। মামলার মূল আসামি হিসেবে উল্লেখিত আসাদ নূর ফকিরও প্রকাশ্যেই ঘুরে বেড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। সহযোগীদের নিয়ে তিনি নানা অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও দাবি সালাহউদ্দিনের।
এদিকে গত রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) মামলার অন্যতম আসামি ফরহাদকে অন্য একটি মামলায় পুলিশ গ্রেপ্তার করে। পরে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এর আগে গত ২ আগস্ট মামলার আরেক আসামি শাহিন আকন্দকে র‌্যাব-১ গ্রেপ্তার করেছিল। আসাদ নূর ফকিরকে ঘিরে জমি দখলসহ নানা অভিযোগও তুলেছে একটি স্থানীয় সূত্র। সূত্রটির দাবি, মৌজা ১৫/১৬ ও কুলিয়াদী এলাকায় অন্যের জমি দখল এবং লিজ নেওয়া জমিতে সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দখলের চেষ্টা করেন তিনি। এক বছরেরও বেশি আগে অন্যের কাছ থেকে দখল বা লিজ নেওয়া একটি জমি বড় অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে ‘প্যারিস সিটি’ নামে একটি ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রকল্পের জন্য দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরে বিরোধের জেরে প্যারিস সিটিকে সরিয়ে ‘এপেক্স’ নামে আরেক প্রতিষ্ঠানকে প্রকল্পের সুযোগ দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানও অসন্তুষ্ট হয়ে প্রকল্প অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার কথা ভাবছে বলে সূত্রটির দাবি। এছাড়াও বসুন্ধরা হাউজিংয়ের নিজস্ব জমি দখলে নিয়ে তা ‘এলিট সিটি‘ নামের একটি ডেভেলপার কোম্পানিকে দেয়া হয়েছে এবং বসুন্ধরার একটি বিল্ডিং দখল করে নিয়ে সেখানে তার নিজস্ব অফিস তৈরি করেছে। প্রতিষ্ঠানও অসন্তুষ্ট হয়ে প্রকল্প অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার কথা ভাবছে বলে সূত্রটির দাবি। এ ছাড়া অন্য এক ব্যক্তির ১৪ শতাংশ জমির মাটি কেটে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। জমির মালিক জানতে চাইলে কে মাটি কেটেছে তা তিনি জানেন না বলে দাবি করেন—এমন তথ্যও দিয়েছে সূত্র। এখন সিআইডির অধিকতর তদন্তে শান্ত সরকার হত্যার প্রকৃত ঘটনা, হামলাকারীদের ভূমিকা এবং মামলার তদন্ত নিয়ে বাদীর অভিযোগ কতটা প্রতিষ্ঠিত হয়-সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা