মঙ্গলবার | সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬
প্রচ্ছদ সারাদেশ ডেঙ্গুর প্রকোপ প্রতিরোধে কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে জনসচেতনতামূলক কর্মসূচী পালন

ডেঙ্গুর প্রকোপ প্রতিরোধে কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে জনসচেতনতামূলক কর্মসূচী পালন

কিশোরগঞ্জ থেকে মোঃ মিজানুর রহমান : ডেঙ্গুর প্রকোপ প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতা বাড়াতে কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি, পরিত্যক্ত পাত্র, ড্রেন-নালা ও মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হয়।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে এবং ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে ক্যাম্পাসের সার্বিক পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিতকরণ কমিটি’র আয়োজনে মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবন, খেলার মাঠ, সড়ক ও আশপাশের বিভিন্ন স্থানে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়। কোথাও পানি জমে আছে কি না, মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ তৈরি হয়েছে কি না; এসব বিষয়ও পর্যবেক্ষণ করা হয়। একই সঙ্গে জমে থাকা পানি ও আবর্জনা অপসারণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে এসব স্থানে মশার প্রজননস্থল তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়।

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্থানে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক বার্তা ছড়িয়ে দেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও ক্যাম্পাসের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে নিয়মিত নজরদারির আওতায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এ সময় বক্তারা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু প্রশাসনিক উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; এর সঙ্গে প্রত্যেকের ব্যক্তিগত সচেতনতা ও দায়িত্বশীল অংশগ্রহণ জরুরি। ক্যাম্পাসের কোথাও পানি জমতে না দেওয়া, আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা এবং মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল দ্রুত শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে ডেঙ্গুর ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

“ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতা; দুটিই সমান গুরুত্বপূর্ণ। নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন,” বক্তারা বলেন ডেঙ্গু প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততা বাড়াতে কর্মসূচির সঙ্গে ফটোগ্রাফি প্রতিযোগিতারও আয়োজন করা হয়েছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধ, পরিচ্ছন্নতা, সচেতনতা এবং মশার প্রজননস্থল নির্মূলের গুরুত্ব তুলে ধরে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল আলোকচিত্রে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য ড. হাবিবুর রহমান বলেনে, “ডেঙ্গু প্রতিরোধে এ ধরনের কার্যক্রম কোনো এক দিনের আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। ক্যাম্পাসের পরিচ্ছন্নতা, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং সম্ভাব্য মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে। একটি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত ক্যাম্পাস নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পাশাপাশি শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত উদ্যোগই পারে ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে।”

ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচ্ছন্নতা অভিযানে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য ড. হাবিবুর রহমান, উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. জি.এম. শফিউর রহমান, ট্রেজারার ড. মো. আব্দুস সালাম আকন্দ, রেজিস্ট্রার নায়লা ইয়াসমিন, ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের (ভারপ্রাপ্ত) পরিচালক তনুজা ইয়াসমিন। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কর্মসূচিতে অংশ নেন।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা