চাঁদপুর থেকে এ কে আজাদ : এক সপ্তাহ ধরে জ্বরে ভুগছিলেন মো. সিয়াম (২০)। পরিবারের সদস্যরা চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার কথা বললেও তিনি বাড়িতেই ছিলেন। বুধবার সন্ধ্যায় শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ডেঙ্গুর উপসর্গ পাওয়া যায়। হাসপাতালে নেওয়ার প্রায় দুই ঘণ্টার মধ্যেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
বুধবার রাত নয়টার দিকে সিয়ামের মৃত্যু হয়। তিনি উপজেলার খাগুরিয়া গ্রামের কৃষক আব্দুস সোবাহানের ছেলে। স্থানীয়ভাবে তিনি একজন ভালো ফুটবলার হিসেবেও পরিচিত ছিলেন।
স্বজন ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে প্রচণ্ড জ্বরে ভুগছিলেন সিয়াম। অসুস্থ হলেও বিষয়টি নিয়ে তিনি খুব একটা গুরুত্ব দেননি। বাড়িতেই বিছানায় ছিলেন। বুধবার বিকেলের দিকে তাঁর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়। সন্ধ্যা সাতটার দিকে বাবা আব্দুস সোবাহান তাঁকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান।
হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা তাঁর শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করেন। এ সময় তাঁর নাক ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ডেঙ্গুর উপসর্গ পাওয়া যায় বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়।
মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার মো. মোবারক হোসেন মামুন বলেন, ‘সিয়ামকে হাসপাতালে আনার পর পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ডেঙ্গুর উপসর্গ পাওয়া যায়। তাঁর নাক ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।’
হাসপাতাল সূত্র জানায়, সিয়ামকে ঢাকায় নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সও প্রস্তুত করা হয়েছিল। কিন্তু অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় নেওয়ার আগেই তাঁর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়। পরে রাত নয়টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
সিয়ামের চাচাতো ভাই হাবিবুর রহমান বলেন, কয়েক দিন ধরে অসুস্থ থাকলেও সিয়াম বিষয়টি কাউকে জানাননি। তিনি বাড়িতেই ছিলেন। হাসপাতালে এসে তাঁর নিথর দেহ দেখতে হবে, তা কেউ ভাবেননি।
হাবিবুর রহমান বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে অসুস্থ ছিল। কিন্তু বিষয়টি কাউকে জানায়নি। বাড়িতে বিছানায় ছিল প্রায় এক সপ্তাহ। হাসপাতালে এসে ওর নিথর দেহ দেখে বিষয়টি মেনে নিতে পারছি না।’
সিয়ামের বাবা আব্দুস সোবাহান কৃষিকাজ করেন। ছেলের মৃত্যুর কথা বলতে গিয়ে তিনি বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমার পোলাডার গত এক সপ্তাহ ধইরা জ্বর। আমি ওরে কইছি ডাক্তারের কাছে যাইয়া চিকিৎসা নে। কিন্তু অয় আমার কথা হুনে নাই। আইজকা অবস্থা বেশি খারাপ হইয়া গেলে হাসপাতালে লইয়া আইছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘হাসপাতালে আওনের পর ওর নাক-মুখ দিয়া রক্ত বার হইছে। ডাক্তার চিকিৎসা করছে। পরে ঢাকা হাসপাতালে নেওনের জন্য অ্যাম্বুলেন্স রেডি করছিলাম। কিন্তু যাওনের আগেই আমার পোলাডা আমাগো ছাইড়া চইলা গেছে।’
সিয়ামের মৃত্যুতে তাঁর পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন।
মতলব উত্তর স্পোর্টস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শামীম খান বলেন, ‘সিয়াম গ্রামের একজন ভালো ফুটবলার ছিলেন। খেলাধুলার প্রতি তাঁর আগ্রহ ছিল। তাঁর এভাবে অকাল মৃত্যুতে এলাকার ক্রীড়াঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।’
হাসপাতালে আসার আগে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে জ্বরে ভোগার বিষয়টি উল্লেখ করে চিকিৎসকেরা জ্বর হলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। বিশেষ করে জ্বরের সঙ্গে রক্তক্ষরণ বা শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
