কক্সবাজার থেকে রিয়াজ উদ্দিন : কক্সবাজারে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ইয়াবা পরিবহনের অভিযোগ আবারও আলোচনায় এসেছে। এবার কক্সবাজার সরকারি কলেজের দোলনচাঁপা ছাত্রীনিবাস থেকে ২০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় এক কলেজছাত্রীকে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে টেকনাফের হ্নীলা থেকে ওই ইয়াবা পাঠানো হয়েছিল বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন আটক ছাত্রী।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশের একটি দল কলেজ প্রশাসনের সহযোগিতায় দোলনচাঁপা মহিলা হোস্টেলে অভিযান চালায়। এ সময় এক ছাত্রীর হেফাজত থেকে ২০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আলী নাদিম বলেন, ‘এক ছাত্রীর কাছে ইয়াবা থাকার তথ্য পাওয়ার পর মোবাইল টিমসহ কলেজের অধ্যক্ষের সহযোগিতায় মহিলা হোস্টেলে অভিযান চালানো হয়। সেখানে ওই ছাত্রীর হেফাজত থেকে ২০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।’
পুলিশের ভাষ্য, জিজ্ঞাসাবাদে আটক ছাত্রী জানিয়েছেন, টেকনাফের হ্নীলায় থাকা তার এক আত্মীয় কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ইয়াবাগুলো পাঠিয়েছিলেন। তবে কোন কুরিয়ার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পার্সেলটি পাঠানো হয়েছে, কীভাবে সেটি কলেজের হোস্টেল পর্যন্ত পৌঁছেছে এবং ইয়াবার চূড়ান্ত গন্তব্য কোথায় ছিল—এসব বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ইয়াবা পরিবহনের সঙ্গে একটি চক্র জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত এবং ইয়াবার উৎস ও গন্তব্য নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে।
কুরিয়ার ব্যবস্থাপনায় নজরদারি কতটা?
কক্সবাজারে বিভিন্ন সময় কুরিয়ার ও পার্সেল পরিবহন ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে মাদক পরিবহনের অভিযোগ ও আটকের ঘটনা সামনে এসেছে। সর্বশেষ কলেজছাত্রীর হেফাজত থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় কুরিয়ার ব্যবস্থাপনায় নজরদারি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রেরক ও প্রাপকের পরিচয় যাচাই, পার্সেলের প্রকৃতি সম্পর্কে তথ্য সংরক্ষণ এবং সন্দেহজনক চালান শনাক্তে আরও কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন। তাদের মতে, মাদক পরিবহনে কোনো ব্যক্তি বা চক্র কুরিয়ার ব্যবস্থাকে ব্যবহার করলে সংশ্লিষ্ট বুকিং প্রক্রিয়া, সিসিটিভি ফুটেজ, রেজিস্টার ও পরিবহন-সংক্রান্ত তথ্য তদন্তের আওতায় আনা জরুরি।
তবে কোনো নির্দিষ্ট কুরিয়ার প্রতিষ্ঠানকে মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত হিসেবে চিহ্নিত করার আগে তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য ও আইনগত প্রমাণ নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শুধু বাহক নয়, শনাক্ত হোক মূল চক্র
২০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় আটক কলেজছাত্রীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি এর পেছনে থাকা মূল চক্র শনাক্তের দাবি উঠেছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন—টেকনাফ থেকে কে ইয়াবা পাঠিয়েছে, কোথায় পার্সেলটি বুকিং হয়েছে, কার নামে পাঠানো হয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত কার কাছে পৌঁছানোর কথা ছিল?
এসব প্রশ্নের উত্তর বের করা গেলে কুরিয়ার ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে মাদক পরিবহনের পেছনে থাকা নেটওয়ার্ক সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে মনে করছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, কক্সবাজারের কুরিয়ার ও পার্সেল সার্ভিসগুলোতে প্রেরক-প্রাপকের পরিচয় যাচাই, সন্দেহজনক পার্সেল শনাক্ত এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করার ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হোক।
তাদের মতে, একের পর এক মাদক উদ্ধারের ঘটনা সামনে এলে শুধু বাহককে আটক করেই তদন্ত শেষ না করে মাদকের উৎস, পরিবহনপথ, অর্থের লেনদেন এবং চূড়ান্ত গন্তব্য পর্যন্ত তদন্ত করা প্রয়োজন। এতে কুরিয়ার ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে মাদক পরিবহনের সুযোগ বন্ধ করার পাশাপাশি প্রকৃত চক্রকেও আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।
