কুতুবদিয়া, (কক্সবাজার) থেকে এম. শহীদুল ইসলাম : কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য চলতি বছরের ডিসেম্বরের আগেই ৯৩২ কেটি টাকা বরাদ্ধের ঘোষণা দিয়েছেণ পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।
বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর সকালে কুতুবদিয়া উপজেলার বড়ঘোপ রোমাইপাড়ার বেড়িবাঁধ ভাঙন এলাকা পরিদর্শন শেষে সাগরপাড়ে টেকসই বেড়িবাঁধের দাবিতে অসংখ্য ভুক্তভোগী বাসিন্দাদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন। মতবিনিময় সভায় মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. এ কে এম শাহাবুদ্দিনের সভাপতিত্বে ও উপজেলা বিএনপির’র সদস্যসচিব এম এ ছালাম কুতুবীর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কাজে বিশ্বাসী উল্লেখ করে বিএনপি নির্বাচনী ইশতেহারে যা ঘোষণা করেছেন, জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি যথাযথভাবে পালন করেছেন বলে জানান। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন কুতুবদিয়ার মানুষের কোন ঘরবাড়ী যেন নতুন করে সাগর গর্ভে বিলীন না হয়। সে লক্ষ্যে স্থায়ী ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে, তিনি বলেন, তাঁর মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ে টিম ইতোমধ্যে সমীক্ষা শেষ করেছে। কুতুবদিয়ায় ৪০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হবে। দ্বীপে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করার জন্য আগামী একনেক সভায় ৯৩২ কোটি টাকার বরাদ্ধ অনুমোদন করা হবে। দ্রুত ক্ষতিগ্রস্থ সাড়ে ৬ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের কাজ ডিসেম্বরের আগেই শুরু হবে বলে নিশ্চিত করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কক্সবাজারের সংসদীয় আসন-২ (কুতুবদিয়া- মহেশখালী)’র সাংসদ আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ আগামী একনেক সভায় কুতুবদিয়ায় সাড়ে ৬ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণের বরাদ্ধ অনুমোদনের দাবি জানান। তিনি পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টের কাছে নভেম্বরের আগেই বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করার অনুরোধ জানিয়ে আগামী বর্ষায় যেন ওই এলাকার বাসিন্দারা সাগরের ঢেউ থেকে নিরাপত্তা রক্ষা পাই সেই ব্যবস্থা করার অনুরোধ করেন। এমপি ফরিদ আরো বলেন, কুতুবদিয়ার বিভিন্ন অংশ সাগরে বিলীন হয়ে গেছে। নতুন করে এ পরিস্থিতির শিকার যেন দ্বীপের বাসিন্দাদের হতে না হয় তাই দ্রুত টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করতে হবে। পাশাপাশি যেনতেনভাবে কোন নির্মাণ কাজ নয় টেকসইভাবে যেমনটি প্রয়াত নেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশে ১৯৯১ দ্বীপের চারিদিকে টেকসই বেড়িবাঁধ করেছেন সেই মানের টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি জানান।
কক্সবাজার জেলা পরিষদ প্রশাসক এটিএম নুরুল বশর চৌধুরী বলেন, কুতুবদিয়ার মানুষ বিগত ১৭ বছর ধরে টেকসই বেড়িবাঁধের দাবি করে আসছে। কিন্তু বিগত সময়ে সরকার কেবল আশ্বাস দিয়েছেন কোন কাজ করেনি। ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ে ওই এলাকার ২০ হাজার মানুষ মারা গেছে। আলী আকবর ডেইলের খুদিয়ারটেক নামে একটি ওয়ার্ড সাগরগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ওই এলাকার জনগণের আকুল আবেদন টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করতে হবে। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সাগরের উচ্চতা বৃদ্ধির বিষয়টি মাথায় রেখে বেড়িবাঁধের উচ্চতা বৃদ্ধির কথা বলেন তিনি। জেলা পরিষদের প্রশাসক আরো বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আন্তরিক সদিচ্ছায় কুতুবদিয়ায় দ্রুত টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। তাই জরুরীভিত্তিতে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মানের জন্য মন্ত্রীর কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেন।
এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ডিজি মো: রুহুল আমিন, কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ আহমদ কুতুবী, সাবেক সভাপতি জালাল আহমদ, জেলা বিএনপির যুগ্ম সা. সম্পাদক মোবারক হোছাইনসহ জেলা উপজেলার নেতৃবৃন্দ ও সরকারী বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ।
এরআগে সকালে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদের নেতৃত্বে সংশ্লিষ্ট একটি উচ্চপর্যায়ে টিম কুতুবদিয়ায় পৌঁছাইলে বড়ঘোপ জেটিঘাটে সর্স্তরের নেতা-কর্মীরা মন্ত্রীর বহরকে স্বাগত জানান। কুতুবদিয়ায় পদার্পণ করে তিনি সরাসরি দ্বীপের ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শনের করতে বড়ঘোপ রোমাইপাড়া সাগরপাড়ে চলে যান। ওখানে বেড়িবাঁধের ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করেন। বেড়িবাঁধ ভাঙন এলাকার ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে তাদের দু:খ দূর্দশার কথা মনযোগ দিয়ে শুনেন।
