মঙ্গলবার | সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬
প্রচ্ছদ সারাদেশ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় পিজিসিএল কর্মকর্তারা অবরুদ্ধ

সিরাজগঞ্জে ১৪ কোটি টাকা গ্যাস বিল বকেয়া :

সংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় পিজিসিএল কর্মকর্তারা অবরুদ্ধ

সিরাজগঞ্জ থেকে মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম : সিরাজগঞ্জে বেসরকারি শিল্প প্রতিষ্ঠান এম এ মতিন কটন মিলসের প্রায় ১৪ কোটি টাকা গ্যাস বিল বকেয়ার কারণে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেই বিপাকে পড়েন পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানীর (পিজিসিএল) কর্মকর্তারা। মিলটির বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা পিজিসিএলের কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করে মিলটির শ্রমিকরা।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে সদর উপজেলার শিয়ালকোলে বিসিক এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে। খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিলের নগদায়ন চেক প্রাপ্তি সাপেক্ষে পূণরায় গ্যাস সংযোগ দেওয়ার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এম এ মতিন কটন মিলের গ্যাস বিল বাকি থাকায় সোমবার সকালে পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানীর ভিজিলেন্স বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারিরাএসে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এরপর মিলের শত শত শ্রমিকার বাইরে বের হয়ে আসে। তারা পিজিসিএলের কর্মকর্তা-কর্মচারিদের অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করতে থাকে। খবর পেয় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রাকিবুল হাসান পুলিশের একটি টিম নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। পরে পুলিশের মধ্যস্থতায় পূণরায় গ্যাস সংযোগ দেওয়ার পর বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা শান্ত হয়।

এম এ মতিন কটন মিলের এক শ্রমিক বলেন, হঠাৎ করেই গ্যাসের লোকজন এসে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। আমরা মিলের শ্রমিকরা একটু বিক্ষোভ করেছি। আমাদের বিক্ষোভের কারণেই তারা লাইন সংযোগ দেয়।

এম এ মতিন কটন মিলের ব্যবস্থাপক (স্টোর) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, এটা একট স্পিনিং মিল, এখানে বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা তুলা থেকে সুতা উৎপন্ন করা হয়। আমরা গ্যাস থেকে বিদ্যুৎ তৈরি করে মেশিন চালাই। দেশের চলমান সংকটে শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো পিছিয়ে গেছে। আমরাও কিছুটা পিছিয়ে পড়েছি। সে কারণে আমাদের দুইটা কি তিনটা গ্যাস বিল বাকি রয়েছে। তবে তার থেকে বেশি আমাদের জামানত রয়েছে।

এ অবস্থায় গ্যাস কোম্পানীর লোকজন মেইনটেনেন্সের কথা বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে। এক পর্যায়ে শ্রমিকরা জানার পর তারা বিক্ষুব্ধ হয়। তবে শ্রমিকরা তাদের সঙ্গে ঔদ্বত্যপূর্ণ আচরণ করেনি। পরে সদর থানা পুলিশের আসার পর পরিস্থিতি শান্ত হয়। আলোচনা করে গ্যাস সংযোগ দেওয়ার পরে স্বাভাবিক হয়।

পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানীর উপ-মহা ব্যবস্থাপক (ভিজিলেন্স বিভাগ) মো. আমিনুর রহমান খান বলেন, ওনাদের ১৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকারও বেশি বিল বাকি থাকায় লাইন কাটার অনুমোদন প্রাপ্ত হয়ে আসি। আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করি। ফ্যাক্টরির লোকজনও একটা অবস্থান তৈরি করে। পরে ম্যানেজমেন্ট ও থানার ওসির সঙ্গে আলোচনা করে সমঝোতার ভিত্তিতে ওনারা একটি নগদায়ন চেক দেয়। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংযোগটা চালু রেখেচলে যাই।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছিল। পরে আমরা কথা বলে সংযোগ চালু করার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে।

সোস্যাল মিডিয়াতে দৈনিক জনতা